ট্রাম্পের ১৫ দফা গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলো ইসরায়েল
গাজা অঞ্চল থেকে সামরিক সদস্য প্রত্যাহারের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ১৫ দফার রূপরেখা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস সম্পূর্ণ অস্ত্রমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত এলাকা থেকে কোনো সৈন্য সরানো হবে না বলে তিনি পরিষ্কার অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
গত রোববার আয়োজিত এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, এই ১৫ দফার প্রস্তাবনাটি ইসরায়েল গ্রহণ করছে না এবং গাজা ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের উস্কানি রুখতে তাদের সামরিক কর্মকাণ্ড বজায় থাকবে। হোয়াইট হাউসের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানান, মার্কিন প্রশাসনের কিছু বার্তা গ্রহণযোগ্য মনে হলেও বেশ কিছু অনুচ্ছেদ তাদের নিকট একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ইসরায়েলি সরকারপ্রধানের এমন অনমনীয় মনোভাবের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে হামাস জানিয়েছে, তারা ইতোপূর্বে প্রস্তুতকৃত পরিকল্পনায় অবিচল রয়েছে। একই সাথে এই মধ্যস্থতা কার্যক্রম যেন বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রগুলোকে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে জুন মাসে হামাস এই ১৫ দফার প্রস্তাবে সম্মত হলে গত ৩০ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিষয়টিকে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি বলে অভিহিত করেন। পিস বোর্ডের অধীনে প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রযুক্তিজ্ঞানের অধিকারী একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি কমিটির কাছে অর্পণের কথা বলা হয়েছিল।
উক্ত বৈঠকে নেতানিয়াহু পুনরায় প্ররোচনাহীনভাবে জানান, তাঁর শাসনকালে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে না। একই সাথে কেবল ভারি যুদ্ধাস্ত্র নয়, বরং হালকা মারণাস্ত্রসহ হামাসের সর্বাত্মক ও পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণের দাবি তোলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ভাষ্যমতে, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে মার্কিন প্রশাসনের সাথে এক ধরনের বড় ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন নেতানিয়াহু। অন্য বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই সাম্প্রতিক অবস্থানের ফলে অঞ্চলটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং গাজার নতুন প্রশাসনিক অবকাঠামো দাঁড় করানোর প্রয়াস মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
গত বছরের অক্টোবরের নামমাত্র যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় দফায় দফায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত অক্টোবরের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার দুইশত ৫৮ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে এবং দুই হাজার তেইশের অক্টোবর হতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা চুয়াত্তর হাজারের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছেছে।