শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

অটোরিকশার দাবির পক্ষে কথা বলা নেতার ৭০০ অটোরিকশা আছে: ডিএনসিসি প্রশাসক

অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।

অটোরিকশার দাবির পক্ষে কথা বলা নেতার ৭০০ অটোরিকশা আছে: ডিএনসিসি প্রশাসক
ছবি: সংগৃহীত

অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই চিত্রাঙ্কন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘একটা বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক, তিনি বললেন— অটোরিকশাওয়ালাদের যেই দাবি, সেটা সরকারকে মানা উচিত।…এটা একটা হাস্যকর একটা বক্তব্য। পরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই নেতার নাকি ৭০০টা অটোরিকশা আছে। আমরা মনে করি এই ধরনের— জনগণের কাছে খোলস বদলিয়ে বারবার পার পাওয়া যাবে না।’

এর আগে গত ৫ অক্টোবর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অটোরিকশা চালকদের দাবির বিষয়ে বলেছিলেন, ‘অটোরিকশা চালকদের যে দাবি, আমি মনে করি— সরকারের এ সমস্ত দাবি মেনে নেওয়া উচিত।’

জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘স্বাধীনতার অর্থ যা ইচ্ছা তা করার সুযোগ নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কথা দিয়েছিলাম— বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র, স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দেওয়া হবে। তার মানে এই নয়— যা ইচ্ছা তাই করবে।’

অটোরিকশা আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা আন্দোলনের নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-নেতাদের সেদিন দেখা গিয়েছিল। বাংলাদেশের একজন মানুষও নেই যে অটোরিকশার পক্ষে রাস্তায় গিয়ে আন্দোলন করবে। সেদিন কারা ছিল? বড় বড় দাড়ি, মাথায় টুপি; পাশে তীর চিহ্ন দেওয়া তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কিন্তু ইতিমধ্যেই বের হয়ে গেছে।’

জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল ফুটপাতের দোকানিদের ডেকে এনে ‘অনৈতিক কাজে’ উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিরপুরে অবৈধভাবে দখল করা ফুটপাত উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। দোকান সরানোর সময় ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায়। এর পর হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়।

এ সময় তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের গাড়ি, ভেকু ও কয়েকটি বাস ভাঙচুরের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগও ওঠে। ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

সেদিনের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি ওই দিন বলেছিলাম— যদি কেউ ফুটপাত নিয়ে তালবাহানা করে, আবার ফুটপাত দখল করার চেষ্টা করে, আমার লাশের ওপর দিয়ে করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকেও প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুদের সামনে আমার প্রিয় মিরপুরবাসীকে জানাই, আমার প্রিয় নগরবাসীর কাছে আমি আমার এই মেসেজটুকু পৌঁছে দিতে চাই— যদি কেউ আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করে, আজকে উপস্থিত আমার প্রিয় নগরবাসীকে সাথে নিয়ে সেটাকে প্রতিহত করার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।’

উচ্ছেদ করা ফুটপাত পুনরায় দখল ঠেকাতে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, টিমের সদস্যরা প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় নজরদারি করছেন। পর্যায়ক্রমে ঢাকা শহরের সব এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।