রবিবার, 8 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

নেতানিয়াহুকে সরাতে ২৮ দিনের সময় আইজেনকটের, জোট গঠনে বড় বাধা আরব দল

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছ থেকে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর জাতীয় জরুরি সরকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন গাদি আইজেনকট। এ জন্য তাঁকে বিভিন্ন দলের সঙ্গে জোট গঠন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন তিনি। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে।

নেতানিয়াহুকে সরাতে ২৮ দিনের সময় আইজেনকটের, জোট গঠনে বড় বাধা আরব দল
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছ থেকে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর জাতীয় জরুরি সরকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন গাদি আইজেনকট। এ জন্য তাঁকে বিভিন্ন দলের সঙ্গে জোট গঠন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন তিনি। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জোট গঠনের পর নতুন নেসেটে আস্থা ভোটে জয়ী হতে হবে সেই জোটকে। তাহলেই সরকার গঠনের পথ খুলবে।

আগামী ১০ নভেম্বর শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন নেসেটের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন।

সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোটের হাতে রয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দলের আসনসংখ্যা ১৯। দল দুটি আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

তবে আরব দলগুলোকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আইজেনকটের ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর অন্য শরিকদের আপত্তি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করছেন ইসরায়েল বেইতেনু দলের প্রধান অ্যাভিগদার লিবারম্যান। তিনি বিভিন্ন সময়ে দেশটির প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের সম্ভাবনা তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।

এদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের শরিক ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) এবার নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দলটির আসনসংখ্যা সাত। ফলে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের হাতে এখন ৪৬টি আসন রয়েছে।

আইজেনকট প্রাথমিকভাবে পাওয়া ২৮ দিনের মধ্যেই সরকার গঠনের জোট তৈরি করতে চাইছেন বলে মনে হচ্ছে। সমর্থকদের তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব একটি জরুরি সরকার গঠন করে ইসরায়েলের ক্ষমতায় নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটাবেন।

এ লক্ষ্য পূরণে আইজেনকট সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন অথবা অতি রক্ষণশীল ইহুদিদের অন্তত একটি দলের সমর্থন চাইতে পারেন। তবে যেকোনো পথ বেছে নিতে হলে ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর শরিকদের কিছু দাবি মেনে নিতে হবে।

আইজেনকটের সামনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় খুব বেশি নেই। তবে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একটি বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে—নেতানিয়াহু ও তাঁর উগ্রপন্থী জোটকে ক্ষমতা থেকে সরানো। ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের নেতৃত্বাধীন আরব দলগুলো বিষয়টিকে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো নেতানিয়াহুর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকারে যোগ না দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। ফলে আপাতত এ ধরনের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

আইজেনকট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট নেসেটের অন্য একজন সদস্যকে এ দায়িত্ব দিতে পারবেন। ওই প্রার্থীও নিয়ম অনুযায়ী ২৮ দিন সময় পাবেন।

দ্বিতীয় প্রার্থীও ব্যর্থ হলে নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তৃতীয় কোনো প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে পারবেন। তাঁকে সরকার গঠনের জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়া হবে। এরপরও অচলাবস্থা কাটানো না গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নেসেট ভেঙে দেওয়া হবে এবং নতুন নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। এ সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। আর সেই সরকারের প্রধান থাকবেন নেতানিয়াহু।