চট্টগ্রাম নগরের নিরিবিলি এলাকা থেকে মাত্র এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে মোটরসাইকেলের লক খুলে চুরি করত একটি আন্তঃজেলা চোর চক্র। পরে চুরি করা মোটরসাইকেল নগরে না রেখে মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ ও নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে মজুত করা হতো। সুযোগ বুঝে সেগুলো বিক্রি করতেন চক্রের সদস্যরা। এ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানতে পেরেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আবদুর রহমান, মাইনুদ্দিন মুরাদ, শাহাদাত হোসেন ও আবু হুরায়রা। তাঁদের কাছ থেকে আটটি চোরাই মোটরসাইকেল ও একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগর, মিরসরাই উপজেলা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নগরের যেসব এলাকায় মানুষের চলাচল কম, সেসব স্থান থেকে তাঁরা মোটরসাইকেল চুরি করতেন। মাত্র এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে লক খুলে মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়তেন তাঁরা।
হাবিবুর রহমান আরও বলেন, চুরির পর মোটরসাইকেলগুলো নগরে রাখা হতো না। মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ ও নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে সেগুলো মজুত করা হতো। পরে উপযুক্ত সুযোগে বিক্রি করা হতো। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চক্রটির সদস্যরা সক্রিয় রয়েছেন।
কীভাবে ধরা পড়ল চক্রটি
পুলিশ জানায়, গত ১২ অক্টোবর ভোরে চট্টগ্রাম নগরের সিআরবি কাঠের বাংলোর সিঁড়ির গোড়া থেকে আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
আবদুর রহমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন সকালে মিরসরাইয়ের মিঠানালা ইউনিয়নের ইছহাক ড্রাইভার হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বিপরীত পাশে অভিযান চালিয়ে মাইনুদ্দিন মুরাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি হোন্ডা মোটরসাইকেল ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মিঠানালার রহমতাবাদ এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে আরও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পরদিন ১৩ অক্টোবর জোরারগঞ্জের ইছাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর হেফাজত থেকেও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, একই দিন বিকেলে নোয়াখালীর সুধারাম থানার এওয়াজবালিয়া ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে আবু হুরায়রাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর দেখানো স্থান থেকে দুটি মোটরসাইকেল ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।
এরপর ১৪ অক্টোবর রাতে সুধারাম থানার দাতপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে আরও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার নোয়াখালী থেকে আরও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার চারজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোট আটটি মোটরসাইকেল ও একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। শুরুতে ছয়টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছিল। তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার নোয়াখালী থেকে আরও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। চুরি করা মোটরসাইকেলগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে সেখানে মজুত রাখা হয়েছিল।
ওসি আরও বলেন, চক্রটির নেতা আবদুর রহমান। তাঁর বিরুদ্ধে চুরি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে চারটি মামলা রয়েছে।