শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: বিচার ও আপিলের তথ্য জানতে চায় বাংলাদেশ

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় একটি মসজিদ এলাকায় ‘অনৈতিক’ কাজের দায়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি আগে থেকে জানত না বাংলাদেশ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে ঢাকা। এরপর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট।

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: বিচার ও আপিলের তথ্য জানতে চায় বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় একটি মসজিদ এলাকায় ‘অনৈতিক’ কাজের দায়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি আগে থেকে জানত না বাংলাদেশ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে ঢাকা। এরপর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট।

শুক্রবার বিকেলে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই বিষয়টি কনস্যুলেটের নজরে আসে। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানো হয়।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানায়। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে দুজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয় এবং তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়। শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ বা বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির বিধান অনুযায়ী আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেন। মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা এবং অপরাধ সংঘটনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিচারক এ সাজা দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখলে তা চূড়ান্ত হয়। এরপর রাজকীয় আদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন প্রয়োগে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সৌদি আরবের বেসরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে এ মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। এ সময় বাংলাদেশের দুজন বিশিষ্ট নাগরিক দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন।

কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের পক্ষভুক্ত দেশ বাংলাদেশ ও সৌদি আরব। সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিক বিদেশে গ্রেপ্তার হলে বন্দীর অনুরোধে আটককারী দেশকে অবিলম্বে তাঁর দেশের কনস্যুলেটকে বিষয়টি জানাতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগ দিতে হয়। তবে এ ক্ষেত্রে দুই বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ দুই বাংলাদেশিকে আটক করে অল্প সময়ের মধ্যে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, এমনটা হওয়ার কথা নয়। আটক ব্যক্তিদের পক্ষে কেউ বাংলাদেশের মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি কেন, সেটিও তাঁদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি সৌদি আরবে কী ধরনের অবস্থানে ছিলেন এবং কত দিন ধরে দেশটিতে বসবাস করছিলেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁরা আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না কিংবা আপিলের সুযোগ নিয়েছিলেন কি না, তা-ও জানা যায়নি।