মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন এশিয়া সফর এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরতে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে পিয়ংইয়ং।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, দেশটির নেতা কিম জং উন ‘ডিফেন্স রেভোলিউশন মিউজিয়াম’ নামে একটি নতুন সামরিক জাদুঘরের উদ্বোধন করেছেন। গত রোববার আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্ত্রী রি সোল জু ও মেয়ে জু অ্যাকে নিয়ে লালগালিচায় হেঁটে জাদুঘরের বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন তিনি।
জাদুঘরটিতে কিমের শাসনামলে তৈরি আধুনিক ড্রোন থেকে শুরু করে ‘হওয়াসং-২০’ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থায়ীভাবে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। এতে একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনের প্রযুক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক শিন জং-উ বলেন, এটি কেবল সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শনের উদ্যোগ নয়। সম্ভাব্য উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ বৈঠকের আগে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং ট্রাম্পকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়াও এর উদ্দেশ্য হতে পারে।
সিউলের কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুলের মতে, অস্থায়ী প্রদর্শনীকে স্থায়ী জাদুঘরে রূপান্তরের মাধ্যমে কিম জং উন তাঁর শাসনামলে অর্জিত পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে ইতিহাসের স্থায়ী সাফল্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।
জাদুঘর উদ্বোধনের পরদিন সোমবার উত্তর কোরিয়া কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পূর্ব সাগরে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।
সিউলের সাম্প্রতিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর এক মাসের মধ্যে এটি পিয়ংইয়ংয়ের চতুর্থ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। ট্রাম্পের সম্ভাব্য এশিয়া সফর ও কিমের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে আলোচনার মধ্যে উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক তৎপরতা নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।