বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সাজেকে পর্যটন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন

সাজেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভ্রমণের ওপর প্রশাসনের জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

সাজেকে পর্যটন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন

সাজেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভ্রমণের ওপর প্রশাসনের জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শহরের চেঙ্গী স্কয়ার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হলে সেখানে মানববন্ধন করেন অংশগ্রহণকারীরা। এ সময় তাঁরা প্রায় এক ঘণ্টা খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের একাংশ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন।

কর্মসূচিতে খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ (শান্তি পরিবহন), কটেজ মালিক সমিতি, খাগড়াছড়ি হোটেল মালিক সমিতি, খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন জিপ মালিক সমিতি, পার্বত্য যানবাহন মালিক কল্যাণ সমিতি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন, শ্রমযান কল্যাণ সমিতি (সিএনজি), মাহিন্দ্র মালিক সমিতি এবং খাগড়াছড়ি হোটেল-রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতিসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের কয়েক শ মানুষ অংশ নেন।

পার্বত্য যানবাহন মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য উজ্জ্বল দে, সহঅধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উল্লাহ, কটেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চাকমা এবং মাহিন্দ্র মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম।

বক্তারা বলেন, বিভিন্ন কারণে বারবার সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ খাতের সঙ্গে জড়িত হাজারো শ্রমিক ও ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত সাজেক ভ্রমণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলে তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন।

সহঅধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উল্লাহ বলেন, সশস্ত্র সংগঠনগুলো পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন চায় না। পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন হলে পর্যটকের আগমন বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। তবে সংঘাত ও চাঁদাবাজির কারণে এ খাত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘাতের জেরে প্রশাসন বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পর্যটনশিল্প সচল রাখতে হলে সংঘাত সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান চালানোরও দাবি জানান তিনি।

আসাদ উল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন। এতে সাজেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।