ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের জন্য সরকারি অনুদান চালু করা হলেও সেই তালিকায় অযোগ্য ব্যক্তিদের স্থান পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
প্রকৃত বহু আন্দোলনকারী স্বীকৃতি পেতে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন, অথচ সড়ক দুর্ঘটনা, সামাজিক দ্বন্দ্ব বা শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও ভুয়া নথির জোরে গেজেটে নাম উঠিয়ে নিয়েছেন।
আন্দোলনের সময় জীবন বাজি রেখে লড়াই করা এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা বহু শিক্ষার্থী সরকারি চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাননি। প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও ছবি জমা দেওয়ার পরও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তারা বাদ পড়েছেন। অথচ সরকার পতনের পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া ব্যক্তিস্বার্থের সংঘাত, পারিবারিক কোন্দল বা মাদকের জেরে আহত ব্যক্তিরাও নথিপত্র জালিয়াতি করে মাসের পর মাস সরকারি টাকা তুলে নিচ্ছেন। ভুয়া মোবাইল নম্বর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে এই অনিয়ম সম্পন্ন হয়েছে।
এমনকি ব্যক্তিগত সড়ক দুর্ঘটনায় চোট পাওয়া ব্যক্তিও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে শীর্ষ ক্যাটাগরির জুলাই যোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। ভোলার এক সংবাদকর্মীর ক্ষেত্রে এমন প্রমাণের তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে দুর্ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীদের অগোচরেই সরকারি নথিতে পরিবর্তনের সুযোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের তদারকি কমিটির শিথিলতার সুযোগ নিয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নামও যুক্ত করা হয়েছে।
আরও অবাক করার মতো তথ্য হলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট থানার একাধিক দায়িত্বরত ব্যক্তি আন্দোলনের আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্তদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আন্দোলন পরিচালনা করা বিভিন্ন সমন্বয়কদের ঘনিষ্ঠজন ও ব্যক্তিগত সহকারীকেও ভূয়া হাসপাতালের নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে বোমা বানাতে গিয়ে আহত কিংবা পারিবারিক সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা সরকারি খরচে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পর্যন্ত গ্রহণ করেছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিকে এই বিশেষ গেজেটের আওতায় আনা হয়েছে এবং যার পেছনে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। এমন বাস্তবতায় রাজপথ থেকে গড়ে ওঠা মূল আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানেই যদি এত অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে তবে পুরো তালিকা নতুন করে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা প্রয়োজন। এই আন্দোলনের আবেগকে কাজে লাগিয়ে যারা জালিয়াতি ও স্বজনপ্রীতিতে যুক্ত হয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনারও জোর তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।