সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগত, জমিজমা কিংবা পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধকে ধর্মীয় হামলা হিসেবে প্রচার করে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো ব্যক্তিগত, জায়গা বা পরিচালনা কমিটি সংক্রান্ত বিরোধকে ধর্মীয় হামলা বলে চালিয়ে অপপ্রচার করার চেষ্টা হয়, যা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।”
ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব ধর্মের মানুষের নিরাপদে ধর্মীয় উৎসব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করার সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন এবং উপাসনা করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। সংবিধানের বাধ্যবাধকতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সরকার দেশের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশেষ করে সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানোর সময় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলেন তিনি।
আগামী ২৫ অক্টোবর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্যাপিত হবে। এরপর মাসব্যাপী চলবে কঠিন চীবর দান উৎসব। এসব আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
চলমান দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ অপকর্ম করে পার পাবে না।
মতবিনিময় সভায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আসিন জিন রক্ষিত মহাথের, উত্তরা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মুদিতাপাল ভিক্ষু এবং ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ স্বরূপানন্দ ভিক্ষু উপস্থিত ছিলেন।