রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের গুরুতর অভিযোগ

ইরানের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের সাম্প্রতিক হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে সৌদি আরব। রিয়াদের দাবি, হুথিদের হামলা বাড়াতে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে তেহরান। সৌদির মতে, ইরানের এই ভূমিকা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব এবং চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির পরিপন্থী।

ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের গুরুতর অভিযোগ

ইরানের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের সাম্প্রতিক হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে সৌদি আরব। রিয়াদের দাবি, হুথিদের হামলা বাড়াতে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে তেহরান। সৌদির মতে, ইরানের এই ভূমিকা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব এবং চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির পরিপন্থী।

সৌদি আরবের পাবলিক ডিপ্লোমেসি বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি বলেন, বর্তমান সংঘাতের পর্যায়ে হুথিদের হামলা বৃদ্ধির পেছনে ইরানের উৎসাহ রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

ক্রিমলির অভিযোগ, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব এবং বেইজিং চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করে ইরান হুথি মিলিশিয়াদের অস্ত্র সরবরাহ, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এবং পরস্পরের দেশে দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশন পুনরায় চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ক্রিমলি জানান, ইরান-সমর্থিত হুথিরা ওমানে আলোচনার জন্য সৌদি আরবের দেওয়া একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। জুলাইয়ে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা ওই বৈঠকের লক্ষ্য ছিল দুই পক্ষের বিদ্যমান মতপার্থক্য দূর করা এবং ইয়েমেনের সংঘাতের তীব্রতা কমিয়ে আনা। তবে প্রস্তাবিত আলোচনায় অংশ নিতে হুথিরা অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে জানান তিনি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে বেসামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত এই গোষ্ঠীটির হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি আরামকোর সদর দপ্তর। এমনকি মক্কা ও মদিনায় অবস্থিত ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলোও তাদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া জরুরি। ব্যর্থ যুদ্ধবিরতির পথে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে হুথিদের সহায়তার অভিযোগ থাকলেও তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পথ বন্ধ করেনি রিয়াদ। ক্রিমলি জানান, সৌদি আরব ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখেছে। তবে ইরানের কাছে কোনো মধ্যস্থতার অনুরোধ জানানো হয়নি বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

ক্রিমলি বলেন, হুথিদের সঙ্গেও সৌদি আরব সরাসরি যোগাযোগ রাখছে। এ ক্ষেত্রে ওমান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নয়, বরং আলোচনায় সহায়তাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।

হুথিদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রাশিয়া ও চীনের সম্পৃক্ততার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৌদির এই কূটনীতিক। তাঁর দাবি, ইরান ও হুথিরা রাশিয়া কিংবা চীনের কিছু পক্ষের কাছ থেকে সামরিক সক্ষমতা ও গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে থাকতে পারে। এমন সহায়তার কিছু অংশ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকেও আসতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

ক্রিমলি জানান, এসব বিষয়ে সৌদি আরব চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) অন্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সৌদি আরব সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখেছে। এসব দেশের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানের উদ্যোগ প্রসঙ্গে ক্রিমলি জানান, পাকিস্তান ও কাতারের নেতৃত্বে পরিচালিত মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে সৌদি আরব। তবে সমঝোতায় পৌঁছানোর পথে এখনো দুটি বড় বাধা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

প্রথম বাধাটি হলো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ পথ নিশ্চিত করা। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে—এমন একটি ব্যবস্থা নিয়ে সমঝোতা প্রয়োজন।

দ্বিতীয় বাধাটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার পরিধি ও কাঠামো নির্ধারণ। এ বিষয়ে স্পষ্ট বোঝাপড়ায় পৌঁছানো জরুরি বলে মনে করেন ক্রিমলি।

তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত ছাড় না দিয়ে ইরান আলোচনার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে। নতুন প্রস্তাব নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে ফিরতে তেহরান অনেক সময় নিচ্ছে এবং প্রস্তাবগুলোও যথেষ্ট হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ক্রিমলি বলেন, ইরান নতুন প্রস্তাব দেওয়ার পরও হরমুজ প্রণালি নিয়ে অস্থায়ী ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য বিষয়ে সাময়িক সমাধানের আলোচনা সামনে আনে। ফলে এসব বিষয়ে আলোচনা করতেই কখনো কখনো কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

ইরানের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও কূটনৈতিক উদ্যোগকে জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করেন সৌদি আরবের এই কূটনীতিক। তাঁর ভাষ্য, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ তৈরি করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে ইরানের ভেতরে সম্ভবত এখনো ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি।