সংবাদমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করে নজরকাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট নিজ পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবারে এক ঘোষণার মাধ্যমে বিষয়টির অনুমোদন দেন।
তবে প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়লেও পরবর্তীতে প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন থেকে জানানো হয়, মাত্র ২৮ বছর বয়সে আমেরিকার ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ হোয়াইট হাউস প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন লিভিট। ট্রাম্পের প্রতি অত্যন্ত অনুগত এই কর্মকর্তা নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে খোলামেলা ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে প্রেসিডেন্টের পক্ষে নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তাঁর সরকারের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এই সহকর্মী চলতি মাসের শেষ দিকে নিজের দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন, যেন তিনি তাঁর নতুন জন্ম নেওয়া সন্তান ও পরিবারকে আরও বেশি সময় দিতে পারেন। নতুন দায়িত্বের অধীনে তিনি ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ বহিরাগত উপদেষ্টা এবং রিপাবলিকান দলের ভেতরে একজন প্রভাবশালী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন।
গত মে মাসে নিজের দ্বিতীয় সন্তান ভিভিয়ানার জন্ম দেন লিভিট। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে এক সশস্ত্র ব্যক্তির অবৈধ প্রবেশের চেষ্টার পর সৃষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপটে তিনি তার মাতৃত্বকালীন ছুটি পিছিয়ে দিয়েছিলেন। কাজ পুনরায় শুরু করার কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানেই এই পদত্যাগের খবর সামনে এলো। সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিভিট জানান, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়ায় তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে কৃতজ্ঞ। উদারপন্থী সংবাদমাধ্যমকে জবাবদিহিতার জায়গায় নিয়ে আসা ও ট্রাম্প প্রশাসনের সাফল্য জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারায় নিজের সন্তুষ্টির কথা জানান তিনি। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, কর্মক্ষেত্রের চরম ব্যস্ততার মাঝে দুই ছোট সন্তানের সঠিক যত্ন নেওয়া ও প্রেস সেক্রেটারির পূর্ণকালীন দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানো তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।
ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী লিভিট ২০২১ সালে সমাপ্ত ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তাঁর প্রেস দলে কাজ করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি প্রধান মুখপাত্রের দায়িত্বে ছিলেন। লিভিট দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ঝিমিয়ে পড়া সংবাদ সম্মেলন ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হলেও সাংবাদিকদের সাথে হোয়াইট হাউসের সম্পর্কে বড় পরিবর্তন আসে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি এক নীতিগত পরিবর্তন এনে জানান, ওভাল অফিস কিংবা প্রেসিডেন্টের বিমানে কারা সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ পাবেন তা কোনো স্বাধীন সাংবাদিক সংগঠন নয়, বরং হোয়াইট হাউস নিজেই নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি ডানপন্থী ও ট্রাম্পপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলোকে অধিক সুযোগ দেওয়া হলে ব্রিফিংয়ে ঐতিহ্যবাহী স্বাধীন ধারার গণমাধ্যমগুলোর প্রাধান্য হ্রাস পায়।
নিউ হ্যাম্পশায়ারে একটি ব্যবসায়ী পরিবারে বেড়ে ওঠা লিভিট ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই এক শিক্ষকের ট্রাম্পবিরোধী মন্তব্যের লিখিত প্রতিবাদ জানিয়ে আলোচনায় আসেন। ২০২০ সালে ট্রাম্প পরাজিত হওয়ার পর ২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান ও অস্ত্র রাখার অধিকারের কথা তুলে ধরে নির্বাচন করলেও তিনি হেরে যান। তবে ২০২৪ সালে টেলিভিশনে যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি পুনর্নিবাচিত প্রেসিডেন্টের আস্থা অর্জন করেন। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টিকে দেশের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করে আগামীতে রাজনৈতিক ময়দানে নিজের অবস্থান ধরে রাখার বার্তা দিয়েছেন লিভিট।