বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বিদেশে কর্মসংস্থানে ব্যয় কমানো ও দালালচক্র দমনের তাগিদ রাষ্ট্রপতির

বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে অভিবাসন ব্যয় কমানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে প্রবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও সক্রিয় ও শ্রমিকবান্ধব হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

বিদেশে কর্মসংস্থানে ব্যয় কমানো ও দালালচক্র দমনের তাগিদ রাষ্ট্রপতির
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে অভিবাসন ব্যয় কমানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে প্রবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও সক্রিয় ও শ্রমিকবান্ধব হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (আরএমএমআরইউ) ৩০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন এবং ‘সোনার মানুষ সম্মিলন’-এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

বিদেশে যেতে গিয়ে অনেক কর্মীকে জমি বিক্রি, ঋণ গ্রহণ এবং পরিবারের সঞ্চয় ব্যয় করতে হয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এরপরও তাঁদের অনেকে প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, অনিশ্চিত চাকরি এবং চুক্তি অনুযায়ী বেতন না পাওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি হন। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মিশনগুলোকে শ্রমিকবান্ধব হতে হবে। বিদেশে যাওয়ার আগে প্রত্যেক কর্মী যাতে চাকরির চুক্তি, বেতন, কর্মপরিবেশ ও আইনি অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।

রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাকশিল্পকে বাংলাদেশের অর্থনীতির দুটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার জোগান, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার জোগান, আমদানি ব্যয় পরিশোধ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এই অর্থ শুধু লাখ লাখ পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে না, দেশের অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করছে।”

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কারিগরি জ্ঞান, ভাষাদক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও পেশাগত প্রশিক্ষণের গুরুত্ব বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, নার্সিং, স্বাস্থ্যসেবা, বয়স্কদের পরিচর্যা, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তি এবং আধুনিক নির্মাণশিল্পে দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে। এসব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ কর্মী তৈরি করতে হবে।

নারী অভিবাসীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে সুদূরপ্রসারী, সমন্বিত ও ফলাফলভিত্তিক জাতীয় কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ‘অভিবাসন দশক’ ঘোষণার প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, বিরোধী দল এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার, বিরোধী দল এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

বিদেশে কর্মসংস্থান ও শ্রমশক্তি রপ্তানির প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন মির্জা ফখরুল। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে ২০০১ সালে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিবাসীদের অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। আরএমএমআরইউ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, মানবিক ও টেকসই করতে ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগে সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হাতে স্মারক তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।