পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে অবৈধভাবে তেল স্থানান্তরের অভিযোগে চারটি জাহাজে একযোগে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। বুধবার (২০ অক্টোবর) চালানো ওই হামলায় জাহাজ চারটিতেই আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে ইরানি বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, হামলার আগের দিন থেকেই জাহাজগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল তারা। পরে বুধবার জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে সমন্বিত হামলা চালানো হয়।
তবে হামলার শিকার জাহাজগুলোর পরিচয়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ইরান।
এদিকে, পৃথক আরেক ঘটনায় হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত পেয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসির নৌবাহিনী।
তবে ওই জাহাজগুলোর নাম-পরিচয়, কী পরিস্থিতিতে সেগুলো মাইনে আঘাত পেয়েছে কিংবা কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। মাইনের ধরন এবং জাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেয়নি বাহিনীটি।
আইআরজিসির নৌবাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে এর জবাবে আরও ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের পালটা পদক্ষেপের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে ধারাবাহিকভাবে জাহাজে হামলা এবং মাইনে আঘাত পাওয়ার এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্য এবং জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।