দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৩০টি ব্যাংকে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। এ কারণে এসব ব্যাংকের এটিএম, কার্ড, পিওএস ও অন্যান্য অনলাইনভিত্তিক সেবা ছয় দিন বন্ধ থাকবে। ফলে এ সময়ে এসব ব্যাংকের অনেক গ্রাহক এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন, কার্ডে কেনাকাটা কিংবা কিউআর কোডে লেনদেন করতে পারবেন না।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বন্ধ রয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসব সেবা বন্ধ থাকবে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংককে না জানিয়ে একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের প্রায় সব ধরনের অনলাইন সেবা বন্ধ রাখার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, বিষয়টি গভর্নর ভালোভাবে নেননি।
ছয় দিন সেবা বন্ধ থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে—অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ বাংলাদেশ, কমিউনিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (বর্তমানে সম্মিলিত ব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত), আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও উরি ব্যাংক বাংলাদেশ।
সেবা বন্ধের আগে রোববার মধুমতি ব্যাংকের গ্রাহকদের মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, ‘প্রিয় গ্রাহক, জরুরি সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে ৪ অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২টা পর্যন্ত মধুমতি ব্যাংকের সকল ক্রেডিট/ডেবিট/প্রিপেইড কার্ড, এটিএম, আইবিএফটি ও কিউআর লেনদেন পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এই সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
অন্য ব্যাংকগুলোর গ্রাহকরাও প্রায় একই ধরনের বার্তা পেয়েছেন। তবে সেবা বন্ধের ঠিক আগে বার্তা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাদের অভিযোগ, এত দীর্ঘ সময় সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হলে গ্রাহকদের আরও আগে জানানো উচিত ছিল। তাহলে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকত।
গ্রাহকদের কেউ কেউ বলছেন, ব্যাংকগুলো শুধু এসএমএস পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আগে থেকেই গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো প্রয়োজন ছিল। এতে গ্রাহকদের ভোগান্তি কিছুটা কমানো যেত।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকিও বাড়ছে। ফলে নিরাপত্তা জোরদারে ব্যাংকগুলোকে নিয়মিতভাবে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম, কার্ড নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন করতে হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে।
একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের ডিজিটাল সেবা বন্ধ থাকায় বিপুলসংখ্যক গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ চলছে। এর প্রভাবে আইটিসি তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের কিছু সেবা সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলো নিজেদের উদ্যোগে নিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।
আরিফ হোসেন আরও বলেন, বিষয়টি গভর্নরও ভালোভাবে নেননি। গুরুত্বপূর্ণ এ ধরনের সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে এককভাবে নেওয়াকে তিনি গর্হিত হিসেবে দেখছেন।