ব্যবসা-বাণিজ্যে তরুণদের আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা দ্রুত গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান আধুনিক প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় তরুণ উদ্যোক্তাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ব্যাংক সুদের হার কমানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এর ফলে রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের মতো পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে শিল্পায়ন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছিল। নতুন কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল, যা ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
সাক্ষাৎকালে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত আসন্ন বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
ডিসিসিআই প্রতিনিধিরা জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে আগামী দুই বছরের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের সমস্যাগুলো সমাধান করে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে বিভিন্ন দাবি, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ বারবার সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে এবং প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্র অর্জনের পর সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এর কারণ হিসেবে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর গণতন্ত্রের সুবিধার অপব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে লুটপাটতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কারণে দেশ পিছিয়ে পড়েছিল এবং ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছিল। ব্যক্তিগত লোভ ও লালসার কারণে ব্যাংকিং খাত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।
এ সময় সামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কাজে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং ডিসিসিআই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।