মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, নিখোঁজ মেয়েকে ফিরে পেতে মায়ের আকুতি

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার এক পরিবার চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ওই দুই বাংলাদেশির মধ্যে তাদের মেয়ে আছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি স্বজনেরা। মেয়ের জীবিত থাকা কিংবা মৃত্যুর বিষয়ে কোনো তথ্য না পেয়ে তাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন মা।

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, নিখোঁজ মেয়েকে ফিরে পেতে মায়ের আকুতি
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার এক পরিবার চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ওই দুই বাংলাদেশির মধ্যে তাদের মেয়ে আছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি স্বজনেরা। মেয়ের জীবিত থাকা কিংবা মৃত্যুর বিষয়ে কোনো তথ্য না পেয়ে তাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন মা।

‘আমার মেয়ে বেঁচে আছে, নাকি মারা গেছে, কিছুই জানি না। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। জীবিত হোক, মৃত হোক, আমি আমার মেয়েকে চাই। শেষবার ফোনে মেয়ে বলেছিল, দুই মাস পর বাড়ি ফিরবে।’

সৌদি আরবের মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানার পর এভাবেই নিজের মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানান ওই নারী।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে কাজের সন্ধানে সৌদি আরবে যান তাদের মেয়ে। তাকে বিদেশে পাঠাতে ধারদেনা করে দেড় লাখ টাকা খরচ করেছিলেন তার বাবা। সৌদিতে যাওয়ার পর প্রথম পাঁচ মাস তিনি বাড়িতে টাকা পাঠাতেন। পরে একদিন ফোন করে পরিবারকে জানান, তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।

এরপর প্রায় এক বছর মেয়ের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ ছিল না। প্রায় ১৫ দিন আগে কারাগার থেকে ফোন করে মেয়েটি জানিয়েছিলেন, দুই মাস পর তার মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই আশার মধ্যেই দুই দিন আগে পরিবার জানতে পারে, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

বুধবার সৌদি প্রেস এজেন্সি দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ করে। ওই দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং মসজিদের ‘পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের’ অভিযোগ আনা হয়েছিল।

মেয়েটির বাবা জানান, মক্কায় কর্মরত কয়েকজন নারীর সঙ্গে ঝগড়ার পর তার মেয়েকে ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে মেয়ে তাকে জানিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

বাবা বলেন, “আমার মেয়ে বেঁচে আছে, নাকি মারা গেছে, তা জানি না। মানুষের কাছে বিভিন্ন কথা শুনছি। সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আমাদের কিছু জানানো হয়নি।”

মেয়ের সঙ্গে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানান তার মা। শেষবার ফোনে কথা বলার সময় মেয়ে দুই মাস পর বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। সেই আশায় দিন গুনছিলেন তিনি। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শোনার পর থেকে মেয়ের পরিণতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

মা বলেন, “আমার মেয়ে আমাকে খুব ভালোবাসত। আমি সরকারের কাছে জানতে চাই, আমার মেয়ের কী হয়েছে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পাওয়ার পর থেকে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। মেয়ের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে চান তারা। একই সঙ্গে মেয়ের মৃত্যু হয়ে থাকলে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখতে চান।

পরিবারের দাবি, এখন পর্যন্ত মেয়ের বিষয়ে সরকারি কোনো দপ্তর থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি।

ওই নারীর এলাকার এক জনপ্রতিনিধিও জানান, এ বিষয়ে সরকারের কোনো দপ্তর থেকে তারা এখনো কোনো তথ্য পাননি।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ওই নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তার বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, এ বিষয়ে তারা কোনো সরকারি তথ্য পাননি। বিভিন্ন মাধ্যমে খবরটি জেনেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে খোঁজ নেওয়া হবে।