শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা: রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষ ও গুলশান আরা

রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরাকে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান তাঁদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা: রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষ ও গুলশান আরা
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরাকে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান তাঁদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ১১ অক্টোবর রাতে ঢাকার পৃথক দুটি এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলাটি করেন ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের পরিদর্শক আলী আকবর।

পরদিন সোমবার আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আতাউর রহমান খান রুকু ও মশিউর রহমান জামিনের আবেদন জানিয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে কাওছার আহম্মেদ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করে ‘আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ ও ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব গ্রুপের মাধ্যমে তাঁরা তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানি দিতে পারে—এমন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাঁরা সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। দলটির পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে তাঁরা যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ‘কালআজকাল.কম’ নামে একটি পেজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট তৈরি করতেন। পাশাপাশি ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রচার ও পরিচালনার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন।

কাজী গুলশান আরার বিরুদ্ধে এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের আগে তিনি দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশ করেন। এ ছাড়া আসামিদের সহযোগী ১০১ জনকে নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি গঠনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এজাহার অনুযায়ী, ওই সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টকশোতে সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও অবজ্ঞা ছড়ানোর কাজ করা হতো।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আসামিরা সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। তাঁদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের যোগাযোগ রয়েছে বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।