শুক্রবার, 16 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য না দেওয়ায় ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা

সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য কর্তৃপক্ষকে না জানানো এবং সম্ভাব্য অর্থ পাচার শনাক্তে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়েছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য কর্তৃপক্ষকে না জানানোর অভিযোগ উঠেছে।

সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য না দেওয়ায় ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা

সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য কর্তৃপক্ষকে না জানানো এবং সম্ভাব্য অর্থ পাচার শনাক্তে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়েছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য কর্তৃপক্ষকে না জানানোর অভিযোগ উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব লেনদেনের মধ্যে অন্তত ১০০ কোটি ডলারের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা ও অবৈধ অর্থায়নের ঝুঁকি ছিল। সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তে ব্যাংকটির ব্যর্থতার সঙ্গে চীনা অর্থ পাচারকারী নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তকেন্দ্রিক বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচারের ঘটনাও রয়েছে।

এ বিষয়ে ব্যাংক অব আমেরিকা জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকটির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক হিসাবে জরিমানার অর্থ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে ব্যাংকটির নিট আয় শেয়ারপ্রতি প্রায় ১৭ সেন্ট কমতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ইতিহাসে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ জরিমানা। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, বড় কোনো ব্যাংক অর্থ পাচারবিরোধী বিধি ও নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ হলে তার প্রভাব শুধু ওই প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকে না। এতে পুরো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় অবৈধ অর্থায়নের ঝুঁকি তৈরি হয়।

মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তে ব্যাংকটি নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার পরিবর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছে। এর ফলে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করা এবং সেগুলোর তথ্য কর্তৃপক্ষকে জানানোর দায়িত্বের বড় অংশ তৃতীয় পক্ষের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

সমঝোতার অংশ হিসেবে ব্যাংক অব আমেরিকা স্বীকার করেছে, অর্থ পাচার প্রতিরোধে যথাযথ কর্মসূচি বজায় রাখা, বিদেশি সহযোগী ব্যাংকগুলোর হিসাব যাচাই-বাছাই করা এবং সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা পালনে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এসব ব্যর্থতার মাধ্যমে ব্যাংকটি ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাংক সিক্রেসি অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছে বলেও স্বীকার করেছে।

মোট ১২০ কোটি ডলারের জরিমানার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের (ওসিসি) জরিমানা রয়েছে ৭৫ কোটি ডলার। সংস্থাটির ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ জরিমানা। বাকি অর্থের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের (ওএফএসি) সঙ্গে হওয়া সমঝোতার অর্থও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ওএফএসি জানিয়েছে, রাশিয়া ও ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা, মাদকসংক্রান্ত কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপসহ বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচির সম্ভাব্য ৪৭৫টি লঙ্ঘনের সঙ্গে ব্যাংকটির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট। তবে এসব লঙ্ঘনকে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা না করায় এ-সংক্রান্ত সমঝোতার অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ ডলার।