সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

আ.লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকার নেবে: যুক্তরাষ্ট্র

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান নেয়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আ.লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকার নেবে: যুক্তরাষ্ট্র

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান নেয়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

নিউইয়র্কে আয়োজিত এক ‘অন-ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এ অবস্থান তুলে ধরেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। গত বুধবার নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শীর্ষক ওই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা অংশ নেন।

২০২৪ সালের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তবে দেশে ফেরার আগে তিনি নিজের নিরাপত্তা চেয়েছেন। একই সঙ্গে নিজের অনুপস্থিতিতে চলা বিচারপ্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও চেয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে বুধবারের ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। তিনি বলেন, বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বৈরিতার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে। শেখ হাসিনার সঙ্গে কী করা উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি বলেও জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাতের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে এবং বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খুবই চমৎকার অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চায়। বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করার যে কাজ চলছে, তার পাশে থাকার কথাও জানান তিনি। বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কার্পণ্য নেই বলেও উল্লেখ করেন। তাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করাকে তিনি সমীচীন মনে করছেন না বলে জানান।

এরপর এক সাংবাদিক আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি নির্দিষ্ট করে জানতে চাইলে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তিন বৃহৎ শক্তির মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে না নিয়ে কীভাবে সবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব এবং বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে দেখছে?

জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ বিশ্বের একটি জটিল অঞ্চলে অবস্থিত। বাংলাদেশের পাশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বড় প্রতিবেশী দেশ রয়েছে। প্রতিটি দেশ যেন নিজেদের পরিমণ্ডলে অবস্থান করতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় সেটিকে উৎসাহিত করে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সুসংহত রাখতে এবং দেশটির ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে চায়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি বিকল্প তুলে ধরতে চায়। কোনো একটি দেশকে বেছে নেওয়ার কথা তারা বলছে না; বরং এসব দেশের জন্য একটি বিকল্প হতে চায়।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বলেন, বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি লিখেছিলেন এবং তার সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। নিউইয়র্কে দুই নেতার মধ্যে কোনো সাক্ষাতের সম্ভাবনা আছে কি না, তা জানতে চান তিনি।

জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের সময়সূচি সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারবেন না। তবে এ সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছিলেন বলে জানান তিনি। ওই সময় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছবি তোলারও সুযোগ হয়েছিল। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সব পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ কিংবা ছবি তোলার সুযোগ হয়নি বলেও জানান তিনি।

এর আগে নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও সেন্ট্রাল এশিয়া সম্পর্কিত উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানী মরিসন দক্ষিণ এশিয়ায় বিরাজমান পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আলোকে বক্তব্য দেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ফটো সেশনে অংশ নেন।