শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সীমান্তে কোনো আগ্রাসন সহ্য করবে না পাকিস্তান’

পাকিস্তানের সীমান্তে কোনো ধরনের আগ্রাসন বা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল সৈয়দ আমির রাজা।

সীমান্তে কোনো আগ্রাসন সহ্য করবে না পাকিস্তান’

পাকিস্তানের সীমান্তে কোনো ধরনের আগ্রাসন বা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল সৈয়দ আমির রাজা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) পিএমএ কাকুলে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

জেনারেল সৈয়দ আমির রাজা বলেন, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা পাকিস্তানের অবিচল অঙ্গীকার। ধ্বংসাত্মক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার আধুনিক যুদ্ধের ধরন ও গতিপ্রকৃতি আমূল বদলে দিয়েছে। এর ফলে প্রচলিত সামরিক কৌশলগুলোর কার্যকারিতাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

তিনি জানান, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করতে দ্রুত বহুমুখী রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে ভূরাজনীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।

পাকিস্তানের এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তাঁর দেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ঐতিহাসিক ইসলামাবাদ চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, শান্তি বজায় রাখা এবং কূটনৈতিক উপায়ে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সীমান্ত পেরিয়ে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিষয়ে প্রতিপক্ষকে সতর্ক করে জেনারেল রাজা বলেন, এ বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান স্পষ্ট ও অটল।

তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের উপস্থিতিতে সংঘাত বা যুদ্ধের কোনো সুযোগ নেই। কোনো পক্ষ ভুল হিসাব করলে তাদের এমন জবাব দেওয়া হবে, যা তাদের কল্পনারও বাইরে। দেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষায় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো মূল্যে প্রস্তুত রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিপক্ষরা অপপ্রচার ও বিভিন্ন বয়ান তৈরির মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী এবং জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তান-ভারত সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে জেনারেল রাজা বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ব্যর্থ হওয়ার পর প্রতিপক্ষ প্রক্সি সন্ত্রাসবাদ ও প্রচলিত যুদ্ধের বাইরের কৌশল আরও জোরদার করেছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের সামাজিক সংহতি ও রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, শত্রুভাবাপন্ন শক্তিগুলো পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রক্সি শক্তিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এসব সংঘাত সরাসরি পাকিস্তানের জনগণের নিরাপত্তার ওপর আঘাত হানছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেনারেল রাজা বলেন, পাকিস্তান শান্তিকামী জাতি হিসেবে সংযম, সংলাপ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে সব সময় অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে দেশটির জনগণ ও নিরাপত্তারক্ষীরা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন।

তবে শান্তির প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকারকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, সংযমকে সংকল্পের অভাব মনে করা প্রতিপক্ষের ভুল হবে। সীমান্ত অতিক্রম করে কোনো আগ্রাসন কিংবা দেশের সার্বভৌম সীমানা লঙ্ঘনের ঘটনা পাকিস্তান সহ্য করবে না।