একটি বাসযোগ্য ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণে দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, দলমত নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই একটি সুন্দর রাষ্ট্র বিনির্মাণ সম্ভব, যে লক্ষ্যের সূচনা করেছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
রবিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির দীর্ঘ পথপরিক্রমার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, ২০০৩ সালে এই ফাউন্ডেশনের জন্য তিনি নিজেই একটি স্লোগান নির্ধারণ করেছিলেন, যার মূলবার্তা ছিল ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও চেষ্টার মাধ্যমে দেশে সচ্ছলতা ও স্বনির্ভরতা আনয়ন। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলে জনকল্যাণমূলক এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি অবরুদ্ধ বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কারও তিনি সম্পন্ন করেন। এর বাইরেও দেশের অর্থনীতির প্রাণ কৃষকদের সহায়তা, শিল্পের ভিত্তি মজবুত করা, শিক্ষার প্রসার এবং নারীদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে তাঁর সুদূরপ্রসারী উদ্যোগগুলোর কথা প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে বিরোধী দলে থাকাকালীন জনগণের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ থেকেই জেডআরএফ-এর জন্ম হয় বলে জানান তিনি। রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা ও দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নানা নিপীড়নের প্রতিকূল পরিবেশেও জিয়াউর রহমানের অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে এই ফাউন্ডেশন কাজ শুরু করে। কৃষকদের মাঝে বীজ বিতরণ, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং পরিবেশ রক্ষায় দেশব্যাপী ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচি, বিশেষ করে ঢাকায় বিপুল সংখ্যক বৃক্ষরোপণের মতো জনহিতকর কার্যক্রমগুলো সংগঠনটির অন্যতম সাফল্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্পদ বা সামর্থ্যের চেয়ে জনসেবায় সদিচ্ছাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্পদের ক্ষুদ্র একটি অংশও যদি অসহায় মানুষ, প্রকৃতি ও প্রাণীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়, তবে তা সমাজে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই সংগঠনটির প্রতিটি কর্মীর আজীবন ব্রত হওয়া উচিত বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে ফাউন্ডেশনের বহুমুখী সেবামূলক কার্যক্রমের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীমের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিটির আহ্বায়ক ও ফাউন্ডেশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য সম্মানীয় অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং জেডআরএফ-এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর মানবকল্যাণের ব্রত নিয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি আর্তমানবতার সেবায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান, গৃহহীনদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ, গবাদিপশু ও সেলাই মেশিন বিতরণ, সামাজিক বনায়ন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ সহায়তাসহ নানাবিধ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করে আসছে।