সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী

প্রতিটি মানুষের সমান আইনি অধিকার এবং সামাজিক মর্যাদা সুনিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, ধর্ম, বর্ণ বা অন্য কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে দেশের নাগরিকদের মাঝে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। প্রতিটি মানুষের সমান আইনি অধিকার এবং সামাজিক মর্যাদা সুনিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর কড়াইল সংলগ্ন বিটিসিএল আবাসিক এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন থেকে তিনি এসব কথা বলেন। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বিটিসিএল সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ এই আনন্দঘন ‘শারদীয় শুভেচ্ছা’ বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ কেবল তাদেরই সমর্থন জোগায় যারা নিঃস্বার্থভাবে দেশ ও স্থানীয় উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করেন। জনকল্যাণমূলক কাজের সঠিক মূল্যায়ন এবং সামাজিক স্বীকৃতি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে আরও বেশি সমাজসেবায় অনুপ্রাণিত করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্ত্রী এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তিনি জানান, সরকারপ্রধান সবসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে আছেন এবং ভবিষ্যতেও তাদের সার্বিক কল্যাণ ও সুরক্ষায় সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখতে গভীরভাবে আগ্রহী। একই সঙ্গে মন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের সকলের সুস্বাস্থ্য, শান্তিময় জীবন ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের সার্বিক মঙ্গল কামনায় উপস্থিত সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এলাকার বেশ কিছু প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরলে মন্ত্রী তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন। তিনি আশ্বাস দেন যে, যাতায়াতের জন্য উন্নত সড়ক, বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুব্যবস্থা এবং বাসস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক দাবিগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান তিনি। তবে এলাকার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় সহযোগিতাও একান্ত অপরিহার্য বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

উৎসবকে আরও আনন্দমুখর করে তুলতে অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত উপহারের শাড়ি উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হাতে তুলে দেন।

বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বিটিসিএল সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার এবং পুরো অনুষ্ঠানটির সাবলীল সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চৌধুরী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আসলাম হোসেন। আনন্দমুখর এই আয়োজনে বিটিসিএল এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, তাদের পরিবারের সদস্যগণ এবং পূজা উদযাপন কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।