শুক্রবার, 16 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইউরোপের ৪ দেশের কোম্পানির সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে রাশিয়া

রাশিয়ায় থাকা ইউরোপের চারটি দেশের কোম্পানির সম্পদ সাময়িক ব্যবস্থাপনার অধীনে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে মস্কো। দেশ চারটি হলো ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও বেলজিয়াম।

ইউরোপের ৪ দেশের কোম্পানির সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে রাশিয়া

রাশিয়ায় থাকা ইউরোপের চারটি দেশের কোম্পানির সম্পদ সাময়িক ব্যবস্থাপনার অধীনে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে মস্কো। দেশ চারটি হলো ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও বেলজিয়াম।

ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সমর্থনের জেরে সংস্থাটির সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক যখন তলানিতে, ঠিক তখনই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক ডিক্রির মাধ্যমে এমন পদক্ষেপ নিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জারি করা এই ডিক্রিতে যেসব কোম্পানির সম্পদের তালিকা রয়েছে, তার মধ্যে আছে ফরাসি ফ্লোরিং নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘টার্কেট’, জার্মান প্যাকেজিং নির্মাতা ‘মেনশেন’, সুইডিশ প্যাকেজিং কোম্পানি ‘স্ভেরিগে ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিংস’ এবং বেলজিয়ামের স্বাস্থ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘অনটেক্স’।

এ ছাড়া এতে ‘ইভোসিস’ নামের ইউরোপীয় ধাতব প্যাকেজিং ব্যবসার রাশিয়ায় থাকা সম্পদের উল্লেখ রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন প্যাকেজিং গ্রুপ ‘সোনোকো’ প্রতিষ্ঠানটি কিনে নিয়েছিল। ডিক্রিতে এসব সম্পদকে সোনোকোর ডাচ ইউনিটের মালিকানাধীন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ক্রেমলিন এর আগে জানিয়েছিল, বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এসব পদক্ষেপ ইইউভুক্ত দেশগুলোর সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুতায় জড়িত থাকার প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, এই প্রক্রিয়া ‘পরিবর্তনযোগ্য’। অর্থাৎ, চাইলে সম্পদগুলোর নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব।

ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার এই নতুন পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন শুক্রবার ইইউর শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে, ইউরোপে জব্দ করা রাশিয়ার কিছু সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার প্রায় ২৩৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রাষ্ট্রীয় সম্পদ জব্দ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পাশাপাশি ইউরোপ ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশে রুশ কোম্পানিগুলোর সম্পদও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ নিয়ে ইইউর তীব্র সমালোচনা করেছে রাশিয়া।

এর আগে গত মাসে খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘নেসলে’ এবং খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওশান’ ও ‘মেট্রো’র বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল রাশিয়া।