শুক্রবার, 16 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে

চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ মাসব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।

১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
ছবি : সংগৃহীত

চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ মাসব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।

এর অংশ হিসেবে প্রতি বছর ১৬ জুলাই তারিখটিকে জাতীয়ভাবে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ রোববার সচিবালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কর্মসূচির কথা জানান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ওই সুনির্দিষ্ট দিনে সংঘটিত দুটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর গণআন্দোলনের জোয়ার দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক গণমাধ্যমের নজরে আসে, যা মূলত স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছিল। দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ধরে রাখতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। একই দিনে কক্সবাজারের পেকুয়া অঞ্চলে শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণে আরেকটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজেই।

সরকারি সিদ্ধান্তের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উদযাপনের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) আয়োজিত এই মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন ভোর ছয়টায় শাহবাগ চত্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হবে। পাশাপাশি আন্দোলনে প্রাণ হারানো শহীদদের পরিবার এবং আহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা দেওয়ারও সিদ্ধান্ত রয়েছে।

ঘোষিত অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো বর্বরোচিত হামলার স্মরণে ১৫ জুলাই ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ বা ‘প্রতিরোধের সূচনা’ শীর্ষক একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক অবদানকে মূল্যায়ন করতে ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা উপলক্ষে আর্মি স্টেডিয়ামে একটি প্রতিবাদী মহাসমাবেশ ও বিপ্লবী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এর বাইরে, ২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় সাধারণ ছাত্র-জনতার গড়ে তোলা অভূতপূর্ব দুর্গ ও প্রতিরোধকে স্মরণ করে সেখানে একটি বিশেষ সমাবেশের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, শুধু নির্দিষ্ট কিছু দিন নয়, বরং রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে আলোচনা সভা, গণসমাবেশ ও বিপ্লবী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরো আগস্ট মাস জুড়ে গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে সমুন্নত রাখা হবে। শহীদদের অসীম আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের এই গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সঠিকভাবে তুলে ধরাই সরকারের এই মহৎ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।