সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

২৬৮ আসনে একক নির্বাচনে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন

দীর্ঘ নাটকীয়তা ও দরকষাকষির পর শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট থেকে সরে দাঁড়াল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি জানিয়েছে, ইসলামের মৌলিক নীতি ও রাজনৈতিক আস্থার সংকটের কারণে তারা ১১ দলীয় সমঝোতায় আর থাকছে না। এর পরিবর্তে আসন্ন নির্বাচনে ২৬৮টি আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে দলটি।

২৬৮ আসনে একক নির্বাচনে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন

দীর্ঘ নাটকীয়তা ও দরকষাকষির পর শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট থেকে সরে দাঁড়াল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি জানিয়েছে, ইসলামের মৌলিক নীতি ও রাজনৈতিক আস্থার সংকটের কারণে তারা ১১ দলীয় সমঝোতায় আর থাকছে না। এর পরিবর্তে আসন্ন নির্বাচনে ২৬৮টি আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে দলটি।

গত কয়েক দিন ধরে আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েন চলার পর শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান।

এর আগে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং তার আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল একমত হয়ে জোটবদ্ধ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আসন বণ্টনের প্রশ্নে দুই দলের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। ইসলামী আন্দোলন যেখানে অন্তত ৫০টি আসন দাবি করেছিল, সেখানে জামায়াত সর্বোচ্চ ৪৫টি আসন ছাড়তে সম্মত হয়। পাশাপাশি পঞ্চগড়-২, রংপুর-১, ৩ ও ৬, কুড়িগ্রাম-৩, গাইবান্ধা-২, রাজশাহী-২, খুলনা-৩, বরিশাল-৪, ময়মনসিংহ-১০, ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১১—এই আসনগুলো ইসলামী আন্দোলনের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকলেও জামায়াত সেগুলো ছাড়তে রাজি না হওয়ায় জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় চরমোনাই পীরের দল।

যদিও উভয় দলের সূত্র আসন বণ্টনকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে, গাজী আতাউর রহমানের দাবি—সমঝোতা ভাঙার পেছনে আসন নয়, আদর্শিক বিরোধই মুখ্য। তিনি বলেন, ‘শরিয়াহ আইনে দেশ চলবে কিনা– এমন প্রশ্নে জামায়াতের আমির বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইনে দেশ শাসন করবেন। অথচ বিদ্যমান আইন পরিবর্তনই ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতি। সমঝোতার প্রধান দল যদি বিদ্যমান আইনে দেশ পরিচালনার প্রতিজ্ঞা করে, তবে শঙ্কিত হই। ইসলামী আন্দোলন নীতির রাজনীতি করে। মৌলিক প্রশ্নে যখন ভিন্ন মত তৈরি হয়, তখন সমঝোতায় থাকার সুযোগ নেই।’

সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্য নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন আতাউর রহমান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার তৈরি ঐক্যের পাটাতনে কাজ করা ও জাতীয় সরকার গঠনের কথায় ‘পাতানো নির্বাচনের’ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই বাস্তবতায় জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় থাকা সমীচীন মনে করছে না ইসলামী আন্দোলন।

তিনি আরও বলেন, চরমোনাই পীর ইসলামের পক্ষে সমঝোতার নীতি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু জামায়াতের প্রাধান্যে যে সমঝোতা গড়ে উঠেছে, তা আর ইসলামের পক্ষের সমঝোতা থাকছে না। একই সঙ্গে ওই জোটের রাজনৈতিক লক্ষ্যও স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৪টি আসন খালি রেখে জামায়াত, এনসিপিসহ ১০টি দল নির্বাচনী ঐক্যের ঘোষণা দেয়। তবে তার পরদিনই আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় ইসলামী আন্দোলন।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, ২৬৮টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন এবং কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না। বাকি ৩২টি আসনে যেসব প্রার্থীর সঙ্গে দলের নীতি ও আদর্শের মিল রয়েছে, তাদের সমর্থন দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইসলামপন্থি শক্তির সামনে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনসাফ কায়েমে চরমোনাই পীর ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ দিয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক স্বার্থ ও ক্ষমতার লক্ষ্য সামনে রেখে কেউ কেউ এই নীতিকে ভিন্ন পথে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টির মতো দলগুলো সমঝোতায় যুক্ত হওয়ায় ইসলামপন্থিদের এক বাক্স নীতি ব্যাহত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ, আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান, আহমদ আবদুল কাইয়ুমসহ দলের অন্যান্য নেতারা।