সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

৩৩% নারী মন্ত্রী নিয়ে নজির গড়ল নেপাল সরকার

নারী নেতৃত্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে নতুন নজির গড়ল নেপাল। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ, যিনি রাজনৈতিক মহলে ‘বলেন শাহ’ নামেও পরিচিত।

৩৩% নারী মন্ত্রী নিয়ে নজির গড়ল নেপাল সরকার

নারী নেতৃত্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে নতুন নজির গড়ল নেপাল। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ, যিনি রাজনৈতিক মহলে ‘বলেন শাহ’ নামেও পরিচিত।

গত শুক্রবার রাজধানী কাঠমান্ডুর রাষ্ট্রপতি ভবন ‘শীতল নিবাসে’ এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে নতুন সরকারের ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) নেতা বলেন্দ্র শাহের এই মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন ৫ জন নারী, যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সবিতা গৌতম। ৩০ বছর বয়সী এই আইনজীবী বর্তমানে কাঠমান্ডু স্কুল অব ল’তে এলএলএম অধ্যয়ন করছেন এবং গত ৫ মার্চের নির্বাচনে চিতওয়ান–৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন।

মহিলা, শিশু ও জ্যেষ্ঠ নাগরিক বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন সীতা বাদি, যিনি নেপালের প্রান্তিক ‘বাদি’ সম্প্রদায় থেকে প্রথম মন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রান্তিক নারীদের সেলাই ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার আন্দোলনে যুক্ত। শপথের পর আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বাদি ও দলিত সম্প্রদায়ের নারীদের উন্নয়নে কাজ করতে চাই।’

ফেডারেল অ্যাফেয়ার্স ও সাধারণ প্রশাসন বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রতিভা রাওয়াল। সাংবাদিকতা থেকে রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ‘গ্যালাক্সি টেলিভিশন’-এ প্রোগ্রাম প্রডিউসার হিসেবে কাজ করেছেন এবং ১০ বছরেরও বেশি সময় সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তাকে ভূমি ব্যবস্থাপনা, সমবায় ও দারিদ্র্য বিমোচন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন নিশা মেহতা, যিনি পেশায় একজন অভিজ্ঞ নার্স। ভারত থেকে নার্সিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে তিনি বিরাটনগর টিচিং হাসপাতালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নেপালের স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

কৃষি, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন গীতা চৌধুরী। থারু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি কৃষি ও পরিবেশ সংরক্ষণে পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

নেপালের পার্লামেন্টে প্রতিটি দলে ৩৩ শতাংশ নারী কোটা বাধ্যতামূলক থাকলেও মন্ত্রিসভায় এই লক্ষ্য আগে কখনো পূরণ হয়নি। ২০২২ সালে গঠিত ২৩ সদস্যের মন্ত্রিসভায় নারী ছিলেন ৬ জন (২৬ শতাংশ)। এর আগে ২০১৭ সালে শের বাহাদুর দেউবার ৫৩ সদস্যের মন্ত্রিসভায় নারী ছিলেন মাত্র ৮ জন (১৫ শতাংশ), যা ছিল নেপালের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ শুধু সংখ্যার হিসেবে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেননি, বরং মন্ত্রিসভায় নেপালের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তার মন্ত্রিসভায় রয়েছেন খাস আর্য (উচ্চবর্ণ), দলিত, বাদি, মাধেসি, থারু ও জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।

গত শুক্রবারই নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আরএসপি নেতা বলেন্দ্র শাহ। শীতল নিবাসে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল। নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীর একজন বলেন্দ্র শাহ মাধেসি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, এবং দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো মাধেসি নেতা প্রধানমন্ত্রী হলেন। এই সম্প্রদায় মূলত ভারতের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ সমতল অঞ্চলে বসবাস করে।

শপথ অনুষ্ঠানে ৩৫ বছর বয়সী এই নেতা পরেছিলেন আঁটসাঁট ট্রাউজার্স ও জ্যাকেট, মাথায় ছিল কালো নেপালি টুপি এবং চোখে সানগ্লাস। র‌্যাপার ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচিত বলেন্দ্র শাহ ২০২২ সালে কাঠমান্ডু সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

তিন বছরের পুরোনো দল আরএসপি গত ৫ মার্চের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ২৭৫ আসনের মধ্যে ১৮২ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী জেন-জি আন্দোলনের পর সরকার পতনের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এটিই নেপালের প্রথম সাধারণ নির্বাচন।

সূত্র: দ্য হিমালয়ান টাইমস