রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

৫৬ ঘণ্টা পরও কুষ্টিয়া সীমান্তের শূন্যরেখার আলে পুশ ইনের চেষ্টার শিকার ১২ জন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে শূন্যরেখার একটি জমির আলে দুই দিন পেরিয়ে গেলেও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করা শিশুসহ ১২ জন নারী-পুরুষের সংকটের কোনো সমাধান হয়নি।

৫৬ ঘণ্টা পরও কুষ্টিয়া সীমান্তের শূন্যরেখার আলে পুশ ইনের চেষ্টার শিকার ১২ জন
ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে শূন্যরেখার একটি জমির আলে দুই দিন পেরিয়ে গেলেও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করা শিশুসহ ১২ জন নারী-পুরুষের সংকটের কোনো সমাধান হয়নি।

দীর্ঘ ৫৬ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও এই মানবিক জটিলতা নিরসনে কোনো সুরাহা না হওয়ায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীই বর্তমানে চরম সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ দাবি করেছে, তারা কাউকেই পুশ ইন বা জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেনি এবং সেখানে আটকে থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অপরদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা কখনোই অনুপ্রবেশকে প্রশ্রয় দেয় না, তাই সীমান্ত গলে কাউকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

এই উত্তেজনার মধ্যেই আজ রোববার ভোররাতে দৌলতপুরের চিলমারী ইউনিয়নের চর চল্লিশপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে আরও এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা চালায় বিএসএফ। সীমান্তের ৮৫/১৩–এস পিলারের কাছে এই ঘটনা ঘটলে বিজিবির তীব্র বাধার মুখে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ওই ব্যক্তিকে ফেরত নিয়ে যায়।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন প্রাগপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আসাদুজ্জামান জানান, সীমান্ত পরিস্থিতির নতুন কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং ওই ১২ জন এখনো আগের স্থানেই অবস্থান করছেন। গত শনিবার দুই দেশের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এরপর থেকে বিএসএফ নতুন কোনো তথ্য সরবরাহ করেনি, বরং আটকে থাকা ব্যক্তিরা ভারতীয় নাগরিক নন বলেই তারা অনড় অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে কড়া নজরদারি বজায় রাখছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও মাথাভাঙ্গা নদীর পাড়সহ সীমান্তবর্তী এলাকায় পুশ ইন ঠেকাতে জোরালো পাহারা দিচ্ছেন।

এর আগে গত শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩–এস পিলার এলাকা দিয়ে এই ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। সে সময় বিজিবি ও সীমান্তের বাসিন্দারা একজোট হয়ে তাদের এই তৎপরতা রুখে দেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ, ৪ জন নারী এবং ৪ জন শিশু রয়েছে।

বর্তমানে এই তিনটি পরিবার কাঁটাতারের বাইরে শূন্যরেখার একটি মাঠের মধ্যে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মানবিক দিক বিবেচনা করে কৌশলে তাদের কাছে শুকনো খাবার, দুধ, কলা ও পানিসহ তিন বেলার আহার পৌঁছে দিচ্ছেন। আটকে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের মধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে, চার সদস্যের একটি পরিবারের বাড়ি সাতক্ষীরায় এবং তিন সদস্যের অপর পরিবারটির বাড়ি খুলনায় বলে তারা দাবি করছেন। তবে বিজিবি দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষার্থে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করেছে।