শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরান কূটনীতির জন্য যেমন প্রস্তুত, তেমনি ‘মহাপ্রলয়ের’ জন্যও প্রস্তুত : আরাগচি

হরমুজ প্রণালির নৌচলাচল স্বাভাবিক করার ব্যাপারে তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সপ্তাহের সময়সীমার প্রস্তাবটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকচ করে দিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

ইরান কূটনীতির জন্য যেমন প্রস্তুত, তেমনি ‘মহাপ্রলয়ের’ জন্যও প্রস্তুত : আরাগচি
ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতায় বসার পথ খোলা রাখলেও, নতুন কোনো আগ্রাসন চাপিয়ে দেওয়া হলে সর্বশক্তি দিয়ে তা মোকাবিলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

রবিবার মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানান, সংলাপের আলোচনার পাশাপাশি যেকোনো বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সমুচিত জবাব দিতে তাঁর দেশ পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নৌচলাচল স্বাভাবিক করার ব্যাপারে তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সপ্তাহের সময়সীমার প্রস্তাবটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকচ করে দিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অনানুষ্ঠানিক খবরের ওপর নির্ভর না করে মধ্যস্থতাকারীদের মারফত ওয়াশিংটনের কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে ইরান।

প্রস্তাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তাদের দাবিগুলো অত্যন্ত সুস্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের দেওয়া শর্তগুলো মেনে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়, তবেই জলপথটি উন্মুক্ত করা সম্ভব। চার থেকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ওয়াশিংটন এসব দাবি পূরণ করতে পারে বলে তাঁর বিশ্বাস। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শর্ত পূরণ হলে ষষ্ঠ দিনে নৌপথটি জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে স্থায়ী সমঝোতার উদ্দেশ্যে উভয় পক্ষ পুনরায় টেবিলে বসতে পারে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হরমুজ প্রণালিটি মূলত গত ফেব্রুয়ারিতে বন্ধ করে দেয় তেহরান। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত আক্রমণ এবং ওয়াশিংটনের আরোপিত সামুদ্রিক বাধার প্রেক্ষাপটে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল তারা।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ক্ষেত্রে গভীর আস্থার অভাবের কথা অকপটে স্বীকার করেন আরাগচি। তাঁর দাবি, বিগত দুই বছরে যখনই কোনো সংলাপ চলছিল, তখনই ইরানের ওপর সরাসরি আক্রমণ চালিয়েছে ওয়াশিংটন। এমনকি আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র তা ছুড়ে ফেলেছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

গত জুনে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক ইরান আগে ভঙ্গ করেছে—এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে তিনি যুক্তি দেন, তেহরান শর্ত ভঙ্গ করেছে বলে মনে হলে সরাসরি বিমান হামলা না চালিয়ে সনদে থাকা বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি ধারাটি অনুসরণ করাই নিয়মসম্মত ছিল।

সম্ভাব্য মার্কিন অভিযানের শঙ্কা প্রসঙ্গে আরাগচি স্পষ্ট করেন, বিগত সামরিক সংঘাতগুলো থেকে তেহরান পর্যাপ্ত শিক্ষা নিয়েছে এবং সেই অভিজ্ঞতার আলোকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় ধরনের রূপান্তর এনেছে। নতুন করে কোনো সংঘাতের সূচনা হলে পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়কর কিংবা প্রলয়ংকারী রূপ নিলেও আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে দেশ রক্ষা করতে তারা পিছপা হবে না। তবে সর্বাত্মক প্রস্তুতির মধ্যেও শান্তিপূর্ণ পথ খোঁজার বিকল্পটি তারা এখনো বন্ধ করেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।