শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

হাসানের ছয় উইকেটের পরও ব্যাটিংয়ে বিপর্যয়, হৃদয়-মুশফিকে স্বস্তি

সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস ৩৫৬ রানে থামিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। একাই নিয়েছেন ছয় উইকেট। তবে বল হাতে দুর্দান্ত দিন কাটলেও ব্যাটিংয়ে নেমে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। দুই ওপেনারসহ টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা দ্রুত ফিরে যাওয়ায় চাপে পড়ে দল। দিনের শেষ দিকে তাওহীদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিমের অবিচ্ছিন্ন জুটি কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে বাংলাদেশকে।

হাসানের ছয় উইকেটের পরও ব্যাটিংয়ে বিপর্যয়, হৃদয়-মুশফিকে স্বস্তি
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস ৩৫৬ রানে থামিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। একাই নিয়েছেন ছয় উইকেট। তবে বল হাতে দুর্দান্ত দিন কাটলেও ব্যাটিংয়ে নেমে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। দুই ওপেনারসহ টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা দ্রুত ফিরে যাওয়ায় চাপে পড়ে দল। দিনের শেষ দিকে তাওহীদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিমের অবিচ্ছিন্ন জুটি কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে বাংলাদেশকে।

শুক্রবার টেস্টের দ্বিতীয় দিন শুরু হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে। দিনের শুরুতে পুরোনো বলে সুবিধা করতে পারছিলেন না বাংলাদেশের বোলাররা। তবে নতুন বল হাতে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হাসান মাহমুদ।

আগের দিন সেঞ্চুরি করা আমির জাঙ্গুকে বোল্ড করে শুরু করেন তিনি। ২১২ বল খেলা এই ব্যাটসম্যান হাসানের বল ছেড়ে দিতে গিয়ে উইকেট হারান। পরের বলেই রোস্টন চেজকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান হাসান। এতে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হয় তাঁর সামনে। জশুয়া বিশপকে আউটের আবেদনেও সাড়া দেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান বিশপ।

এরপরও হাসানের বোলিংয়ের ধার কমেনি। তাঁর পঞ্চম উইকেটটি আসে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের বিরল এক ঘটনার মধ্য দিয়ে। পেসারের বলে প্রথমবারের মতো স্টাম্পিংয়ের শিকার হন কোনো প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যান। হাসানের বলে জশুয়া বিশপকে স্টাম্পিং করেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস। পেসারের বলে স্টাম্পের এত কাছে দাঁড়িয়ে কিপিং করা সচরাচর দেখা যায় না। প্রথম বলেই দ্রুত স্টাম্পিং করে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন লিটন।

বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট ইনিংসে এই প্রথম পাঁচ উইকেট পেলেন হাসান। এর আগে চারবার ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন তিনি, তবে প্রতিবারই দেশের বাইরে। পাকিস্তান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ সাফল্য পেয়েছিলেন। টেস্ট ইতিহাসে হাসান ছাড়া শুধু অস্ট্রেলিয়ার নাথান লায়নেরই এই কীর্তি রয়েছে।

পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর আরও একবার আঘাত হেনে নিজের শিকার ছয়টিতে নিয়ে যান হাসান। তাঁর বোলিংয়ের সুবাদে ৩৫৬ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস। তবে সফরকারীদের সাড়ে তিন শ রানের বেশি করতে দেওয়ার পেছনে বাংলাদেশের স্পিনারদেরও দায় রয়েছে। ৩১.৪ ওভার বল করে দুটি উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অন্যদিকে ৩০ ওভার করে বল করেও উইকেট পাননি তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান।

বাংলাদেশের ব্যাটিং শুরুর আগেই আসে আরেকটি দুঃসংবাদ। বাউন্ডারি বাঁচাতে গিয়ে বাঁ পায়ের গোড়ালিতে চোট পান সাদমান ইসলাম। গোড়ালি মচকে যাওয়ায় দ্বিতীয় ইনিংসে আর ব্যাটিং করতে পারেননি তিনি। ফলে তানজিদ হাসানের সঙ্গে ইনিংস শুরু করতে নামতে হয় আগের টেস্টে আট নম্বরে ব্যাট করা নাঈম হাসানকে।

ক্যারিবীয় বোলারদের সামনে শুরু থেকেই ধুঁকেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং। নয় ওভারের মধ্যেই ফিরে যান দুই ওপেনার। প্রথম ১৩ ওভারের মধ্যে ১০ ওভারই মেডেন খেলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ইনিংসের ১৫তম বলে প্রথম রানের দেখা পান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। তবে তিনিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৮ রান করে শামার জোসেফের বলে বোল্ড হন তিনি।

দিনের শেষ ভাগে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন তাওহীদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম। তাঁদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১০৪ বলে যোগ হয়েছে ৩৭ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও ধৈর্য ধরে উইকেটে টিকে আছেন দুজন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের খেলা থেকে দেখা গেছে, পুরোনো বলে এই উইকেটে ব্যাটিং তুলনামূলক সহজ। বাংলাদেশ সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারলে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা কমবে। দ্বিতীয় ইনিংসে দলের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা এখন হৃদয় ও মুশফিককে ঘিরেই।