হাজারি ক্লাবে প্রবেশ করা এখন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য কেবলই সময়ের ব্যাপার বলে মনে হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সৌদি প্রো লিগের এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে আল খুলুদের বিপক্ষে ৫-৩ ব্যবধানের জয়ে অনবদ্য এক হ্যাটট্রিক উপহার দিয়েছেন তিনি।
এই তিন জাদুকরী গোলের সুবাদে তার ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা এখন ৯৮৫-তে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, অবিস্মরণীয় ১ হাজার গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে এই ফরোয়ার্ডের প্রয়োজন আর মাত্র ১৫টি গোল।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। মাত্র ১৬ মিনিটের মাথায় ফরাসি স্ট্রাইকার জুলিয়ান ডমিঙ্গেজের লক্ষ্যভেদে শুরুতে লিড পেয়েছিল আল খুলুদ। তবে খুব দ্রুতই আল নাসরের হয়ে স্কোরলাইনে সমতা ফেরান আঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েল। এরপর সাদিও মানের নৈপুণ্যে প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় আল নাসর। কিন্তু বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে যোগ করা সময়ে আল খুলুদের হয়ে আঁতোয়ান এসোম্বা বল জালে জড়ালে ২-২ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করেন রোনালদো। ম্যাচের ৬৬, ৭২ ও ৮১ মিনিটে টানা তিনবার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করে দলকে বড় জয় এনে দেন তিনি। এই তিনটি গোলের মধ্যে দুটি ছিল ডি-বক্সের খুব কাছ থেকে নেওয়া এবং অপরটি আসে দৃষ্টিনন্দন হেডের মাধ্যমে। ২০২৩ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমানোর পর আল নাসরের জার্সিতে এটি তার সপ্তম হ্যাটট্রিক।
ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনটি আগে থেকেই রোনালদোর দখলে রয়েছে। ৯৩৬ গোল নিয়ে এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন লিওনেল মেসি, যিনি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদোর চেয়ে ৪৯ গোলে পিছিয়ে আছেন। জাতীয় দল এবং ক্লাব ফুটবল মিলিয়ে সিআরসেভেন এ পর্যন্ত ৬৭ বার হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪টি, পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে ১০টি, আল নাসরের হয়ে ৭টি এবং জুভেন্টাস ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে ৩টি করে হ্যাটট্রিক রয়েছে তার নামের পাশে।
গোল উৎসবের এই ম্যাচে আরও একজনের অবদান ছিল চোখে পড়ার মতো, তিনি হলেন রোনালদোর জাতীয় দল ও বর্তমান ক্লাব আল নাসরের সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্স। একাই চারটি গোলে সহায়তা করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। তবে এমন দাপুটে জয়ের পরও সৌদি প্রো লিগের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানেই অবস্থান করছে আল নাসর। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা আল কাদসিয়ার সমান পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে আছে তারা। তবে শীর্ষ দলটি আল নাসরের চেয়ে একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে।