বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে কেইন, চ্যালেঞ্জে ইয়ামাল ও এমবাপ্পে

ইংল্যান্ডের ফুটবলে ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগ এসেছে হ্যারি কেইনের সামনে। তবে ব্যালন ডি’অর জয়ের লড়াইয়ে তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল ও রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। তিন তারকার মধ্যে শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ এই ব্যক্তিগত পুরস্কার, তা জানা যাবে আজ লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে।

ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে কেইন, চ্যালেঞ্জে ইয়ামাল ও এমবাপ্পে
ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ডের ফুটবলে ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগ এসেছে হ্যারি কেইনের সামনে। তবে ব্যালন ডি’অর জয়ের লড়াইয়ে তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল ও রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। তিন তারকার মধ্যে শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ এই ব্যক্তিগত পুরস্কার, তা জানা যাবে আজ লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে।

অনুষ্ঠানটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়। ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম লন্ডনে আয়োজন করা হচ্ছে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ১৯৫৬ সালে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক উইঙ্গার স্ট্যানলি ম্যাথুস।

শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশে এবারের পুরস্কার জয়ের দৌড়ে বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার কেইনকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। তাঁর দুর্দান্ত গোল-ফর্মের ওপর ভর করে বায়ার্ন জিতেছে জার্মান লিগ ও কাপের শিরোপা।

তবে কেইনের ব্যালন ডি’অর জয় নিশ্চিত নয়। চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের যাত্রা থেমেছে সেমিফাইনালে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও সেমিফাইনালের বাধা পেরোতে পারেনি ইংল্যান্ড। বড় দুটি প্রতিযোগিতায় দলীয় সাফল্য না পাওয়ার বিষয়টি তাঁর পুরস্কার জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

৩৩ বছর বয়সী সাবেক টটেনহাম স্ট্রাইকার অবশ্য ব্যালন ডি’অর জয়ের আগ্রহের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এমন কিছু অর্জন করতে পারলে আমার খুব ভালো লাগবে। এটা হবে আমার ক্যারিয়ারের বিশাল এক মাইলফলক।’

পুরস্কার ঘোষণার অপেক্ষা যে পরিবারের সদস্যদের জন্যও চাপের, তা জানিয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। কেইনের ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, আমার স্ত্রী ও পরিবার আগে থেকেই ফলটা জানতে পারলে বেশি খুশি হতো। ব্যাপারটা সবার জন্যই খুব চাপের।’

ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র চারজন ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। তাঁরা হলেন স্ট্যানলি ম্যাথুস, ববি চার্লটন, কেভিন কিগান ও মাইকেল ওয়েন। সর্বশেষ ২০০১ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন ওয়েন।

বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি অবশ্য ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে কেইনের দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোয় হ্যারিকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে দলীয় ট্রফিগুলো জিততে পারা। এখন সে যদি ব্যালন ডি’অর জিতে নিজের ক্যারিয়ার কিংবা মৌসুমকে পূর্ণতা দিতে পারে, দারুণ ব্যাপার হবে। দলের জন্য যেভাবে খেলেছে, তাতে সে এই পুরস্কারের বড় দাবিদার।’

ইয়ামালের বিশ্বাস, তিনিই ফেবারিট

গত বছর পিএসজির উসমান দেম্বেলের পর দ্বিতীয় হয়েছিলেন বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল। ১৯ বছর বয়সী এই তারকা একদিন ব্যালন ডি’অর জিতবেন, এমন প্রত্যাশা অনেকেরই। তবে এবারও তাঁর সামনে রয়েছে কিছু বাধা।

হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে ক্লাবের হয়ে মৌসুম আগেভাগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল ইয়ামালের। এরপর স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী অভিযানেও নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না তিনি। স্পেনের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছিল দলের সামগ্রিক সমন্বয়।

তবে এসব কারণে আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি পড়েনি ইয়ামালের। গত মাসে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মতে, এমবাপ্পে ও আমি বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড়। আমি সত্যিই মনে করি, বিশ্বসেরা হিসেবে হয়তো আমরা দুজনই আছি। আর এ বছর আমি যা জিতেছি, তাতে পুরস্কারটি আমারই প্রাপ্য।’

এমবাপ্পের ভোট এমবাপ্পেকেই

ইয়ামালের হাতে দলীয় সাফল্য থাকলেও এমবাপ্পের মূল শক্তি ব্যক্তিগত অর্জন। গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা ফ্রান্সের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেননি ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। তবে লা লিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও বিশ্বকাপ—তিন প্রতিযোগিতাতেই তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা।

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে একাই ১০ গোল করেছেন এমবাপ্পে। এতে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২-এ। প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন তিনি।

নিজের এই অর্জন নিয়ে ফরাসি তারকা বলেন, ‘বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া, ফুটবল ইতিহাসের সব কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় শীর্ষে ওঠা, এটা সত্যিই বিশেষ কিছু।’

ব্যালন ডি’অরের ভোট কাকে দেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে নিজের পছন্দ জানাতে দ্বিধা করেননি এমবাপ্পে। এক শব্দে তাঁর উত্তর, ‘নিজেকে।’

নারীদের পুরস্কারে এগিয়ে পুতেয়াস

ছেলেদের ব্যালন ডি’অর নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও নারীদের বিভাগে স্পেনের আলেক্সিয়া পুতেয়াসকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তৃতীয়বারের মতো পুরস্কারটি জয়ের দৌড়ে রয়েছেন তিনি।

২০২১ ও ২০২২ সালে টানা দুইবার ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন পুতেয়াস। এরপর টানা তিন বছর পুরস্কারটি জেতেন তাঁর স্বদেশি আইতানা বনমাতি। তবে চোটের কারণে কঠিন সময় কাটানো বনমাতির টানা জয়ের ধারাবাহিকতা এবার শেষ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন পুতেয়াস। পরে তিনি যোগ দিয়েছেন লন্ডন সিটি লায়নেসেসে। তাঁর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ পোল্যান্ডের এভা পায়োর। বার্সেলোনার সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের অভিযানে ১১টি গোল করেছিলেন পায়োর।

যেভাবে নির্বাচিত হন বিজয়ী

১৯৫৬ সালে ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ব্যালন ডি’অর পুরস্কার চালু করে। প্রথমবারের বিজয়ী ছিলেন ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথুস।

বিজয়ী নির্বাচনের জন্য ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০টি দেশের একজন করে ফুটবল সাংবাদিক ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে তাঁরা নিজেদের পছন্দের সেরা ১০ ফুটবলারকে বেছে নেন।

ব্যালন ডি’অর জিতলে সরাসরি কোনো অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয় না। তবে এই স্বীকৃতির ফলে ক্লাব ও বাণিজ্যিক পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের বোনাস পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি ফুটবলারের বাজারমূল্যও বাড়তে পারে।