বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

দুই মেট্রোরেলের আট স্টেশনসহ চার প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি সই

রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব প্যাকেজের আওতায় আটটি স্টেশনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

দুই মেট্রোরেলের আট স্টেশনসহ চার প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি সই
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব প্যাকেজের আওতায় আটটি স্টেশনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে এমআরটি লাইন-৬-এর ডিপো এলাকায় মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলন কক্ষে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। মেট্রোরেল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, চুক্তিগুলো প্রকল্প দুটির অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১-এর প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে, গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুট প্রকল্পের সংশোধনীতে ব্যয় ১১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট কমানো এবং যাতায়াতের সময় হ্রাস করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা যাবে না। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি দীর্ঘায়িত না হয়।

চুক্তি হওয়া চারটি প্যাকেজের মধ্যে দুটি এমআরটি লাইন-১ এবং বাকি দুটি এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুট প্রকল্পের আওতাভুক্ত।

এমআরটি লাইন-১-এর কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-২-এর আওতায় ডিপোর বিভিন্ন পূর্ত ও ভবন নির্মাণকাজ হবে। এর মধ্যে ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড এবং অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি আধুনিক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। কাজটি করবে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো অ্যান্ড করপোরেশন।

একই প্রকল্পের সিপি-৭ প্যাকেজের আওতায় পাতালপথ থেকে উড়ালপথে ওঠার সংযোগস্থল থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুল—এই তিনটি উড়াল স্টেশন তৈরি করা হবে। কাজটি যৌথভাবে করবে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন, ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এবং চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি (সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি)।

এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের সিপি-২ প্যাকেজের আওতায় ডিপোর প্রশাসনিক ভবন, স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, গুদাম ও ওয়ার্কশপ শেডসহ বিভিন্ন পূর্তকাজ করা হবে। এ কাজ যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশের কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম লিমিটেড এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।

অন্যদিকে, এ প্রকল্পের সিপি-৩ প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারা—এই পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মিত হবে। এ কাজও করবে সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি কনসোর্টিয়াম।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির আহমদ।