পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে ‘বিক্ষুব্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা-চট্টগ্রাম’ ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, “৫৪ বছর পর একই অপরাধ এই ঘাতকরা করছে। এদের কী ঔদ্ধত্য-সাহস, আমরা দেখছি। এদেশে মুক্তিযোদ্ধারা এখনো সব মারা যায় নাই। আমরা বলি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় হাত দিলে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হাত দিলে এদেশ আবার নতুন করে গড়ে উঠবে।”
তিনি বলেন, “আমরা জানি যে জামায়াত চক্র তাদের কিলিং স্কোয়াড, আলবদর বাহিনী একাত্তর সালে আমাদের দেশের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের রাতের অন্ধকারে চোখ বেঁধে নিয়ে রায়ের বাজারে গুলি করে হত্যা করে ফেলে দিয়েছিল। সেই আলবদর বাহিনীর নৃশংসতা আমরা দেখেছি।”
শাহ আলম আরও বলেন, “একই জিনিসি অন্য ফর্মে অন্য রূপে আজকে আমরা নতুনভাবে দেখছি। আগুন নিয়ে তারা খেলছে। আমরা বলব, আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করুন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি সবাইকে মিলে দাঁড়াতে হবে।”
মানববন্ধনে মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বলেন, “ঘুমিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা আবার জেগে উঠুন। আমাদের মরার কোনো ভয় নেই। একাত্তর সালেই আমরা মৃত্যুভয়কে পরাজিত করেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে আজ আমাদের দলমত সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর ধরে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা দলগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে কোনো কাজ করেনি। বরং চেতনা বিরোধীদের প্রশ্রয় দিয়েছে। এজন্য স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আজ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামলে একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে আবার পরাজিত করা সম্ভব।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা সিপিবির সভাপতি অশোক সাহা, গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা উদয়ন নাগ, মাহবুব মিন্টু ও বালাগাত উল্লাহ এবং উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আহ্বায়ক অমল কান্তি নাথ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন মুক্তিযোদ্ধারা।
গত শনিবার পিরোজপুরে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো ও দাফনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁর স্বজনেরা।
পরে পিরোজপুর জেলা পুলিশের সহায়তায় মরদেহটি পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। সেখানে বিকেল পাঁচটার দিকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর মরদেহটি নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়। রাত দুইটার দিকে পুলিশ পাহারায় নিজ গ্রামে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়। তবে বাধার কারণে তাঁর নারী স্বজনদের কবর খুঁড়তে বাধ্য হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।