বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

গ্রিড বিপর্যয়ে ছয় ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট, কারণ অনুসন্ধানে কমিটি

জাতীয় গ্রিডের সঞ্চালন লাইনে ত্রুটির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)। মঙ্গলবারের এ বিপর্যয়ের পর সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গ্রিড বিপর্যয়ে ছয় ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট, কারণ অনুসন্ধানে কমিটি
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় গ্রিডের সঞ্চালন লাইনে ত্রুটির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)। মঙ্গলবারের এ বিপর্যয়ের পর সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় নির্ধারণের জন্য প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীকে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে পিজিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে ঢাকার মেঘনাঘাট-হরিপুর সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। এর প্রভাবে চট্টগ্রামেরও বেশ কয়েকটি লাইন ট্রিপ করে। পরে বেলা আড়াইটার মধ্যে সঞ্চালন লাইনের সব পয়েন্টে পুনরায় সংযোগ চালু করা হয়।

এর আগে দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাকার পূর্বাঞ্চল এবং চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়, সুপ্রিম কোর্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকেও বিদ্যুৎ ছিল না।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন, মহাখালী, মতিঝিল, মগবাজার, বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় এ বিপর্যয়ের প্রভাব পড়ে। চট্টগ্রামের কিছু অংশ এবং নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকাতেও একই সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে বেলা আড়াইটার দিকে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরতে শুরু করে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও পিজিসিবির কর্মকর্তারা জানান, সঞ্চালন লাইনে বিভ্রাটের কারণে কয়েক মিনিটের মধ্যে গ্রাহক পর্যায়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বেলা আড়াইটার দিকে সঞ্চালন লাইন চালু করা সম্ভব হলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করে সব এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়।

পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ১৪ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং ৩০০ মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছিল।

জাতীয় গ্রিডে ত্রুটির পর দুপুর ১টায় বিদ্যুতের চাহিদা কমে ১০ হাজার মেগাওয়াটে নেমে আসে। একই সময়ে উৎপাদনও কমে যায়। দুপুর ২টায় ১১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন নেমে আসে ৯ হাজার মেগাওয়াটে। ফলে ওই সময়ে ২ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। পরের ঘণ্টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াটে। বিকেল ৪টায় লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার মেগাওয়াট।

এ বিষয়ে পিজিসিবির কোম্পানি সচিবালয়ের ব্যবস্থাপক এ বি এম বদরুদ্দোজা খান সাংবাদিকদের বলেন, সঞ্চালন লাইন ট্রিপ করার সময় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করা হয়েছিল। দুপুর আড়াইটার দিকে সঞ্চালন লাইনগুলো চালু করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু করা হচ্ছিল।

এর আগে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বড় একটি অংশ প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল।

তারও আগে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।