পটুয়াখালীর গলাচিপায় আবাসিক মাদ্রাসার নামে বরাদ্দ নেওয়া জব্দ করা ইলিশ বাসায় নিয়ে সংরক্ষণের অভিযোগে এক শিক্ষকসহ দুজনকে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মোহাম্মদ ইজাজুল হক তাঁদের প্রত্যেককে ৪০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধভাবে মাছ আহরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। অভিযানে অবৈধভাবে আহরণ করা ২৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়।
পরে তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী বন্যাতলী খেয়াঘাটে স্থানীয় তিনটি মাদ্রাসা ও একটি এতিমখানার শিক্ষার্থীদের মধ্যে জব্দ করা ইলিশ বিতরণ করা হয়। এ সময় মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাঁর মাদ্রাসার পক্ষ থেকে কিছু ইলিশ গ্রহণ করেন। তবে সেগুলো প্রতিষ্ঠানে না নিয়ে নিজের বাসার ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন জানান, জব্দ করা ইলিশ বিতরণের সময় মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নিজেকে একটি আবাসিক মাদ্রাসার শিক্ষক পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য মাছ গ্রহণ করেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাঁর মাদ্রাসাটি আবাসিক নয়। তিনি ইলিশগুলো বাসায় নিয়ে ফ্রিজে রেখেছিলেন। এ ছাড়া ইলিশ গ্রহণের সময় মোহাম্মদ আবদুল্লাহর পক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন।
ইউএনও আবুজর মোহাম্মদ ইজাজুল হক বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযানের সময় কিছু ইলিশ জব্দ করা হয়েছিল। পরে সেগুলো স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। কিন্তু মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও আবুল হোসেন আবাসিক মাদ্রাসার নামে ইলিশ নিয়ে তা বাসায় সংরক্ষণ করেন। এ কারণে তাঁদের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।