বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

মসজিদের সভাপতি পদ নিয়ে সংঘর্ষ, বসতবাড়িতে লুটপাট-অগ্নিসংযোগ

মাদারীপুর সদর উপজেলায় মসজিদের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত পাঁচটি বসতঘরে আগুন দেওয়া এবং প্রায় ৩০টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মসজিদের সভাপতি পদ নিয়ে সংঘর্ষ, বসতবাড়িতে লুটপাট-অগ্নিসংযোগ

মাদারীপুর সদর উপজেলায় মসজিদের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত পাঁচটি বসতঘরে আগুন দেওয়া এবং প্রায় ৩০টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দী এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে বাহেরান্দী জামে মসজিদের পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে মোশারফ ফকিরকে সভাপতি নির্বাচিত করা হলে তাতে আপত্তি জানান স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মোড়ল। তিনি নিজেকে সভাপতি দাবি করে এ নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এরপর বাচ্চু মোড়ল ও সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাচ্চু মোড়লের শতাধিক কর্মী-সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়িঘরে আক্রমণ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ। এতে অন্তত পাঁচটি বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রায় ৩০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী সময়ে যাতে আবার সংঘর্ষ ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তামিম মাতুব্বর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করেন, পুলিশ এক পক্ষকে সমর্থন দিয়ে তাঁদের বাড়িঘর থেকে বের করে দেয়। এরপর বাচ্চু মোড়লের লোকজন তাঁদের ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেন এবং আগুন ধরিয়ে দেন।

তামিম মাতুব্বর বলেন, ‘পুলিশ তাদের (বাচ্চু) পক্ষ নিয়ে আমাদের বাড়িঘর থেকে বের করে দেয়। এরপর বাচ্চু মোড়লের লোকজন আমাদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।’

সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বরও পুলিশের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, বাচ্চু মোড়লের সমর্থকেরা এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালালেও পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

তবে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বাচ্চু মোড়ল। তাঁর বক্তব্য, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন এমদাদ মাতুব্বর ও তাঁর সমর্থকেরা। তাঁর দাবি, তাঁরা নিজেরাই সংঘর্ষে জড়িয়ে এখন দায় তাঁর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আগেও হয়েছিল সংঘর্ষ

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে গত সোমবারও তাঁদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। ওই সময় কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বিরোধ এড়াতে পুলিশ দুই পক্ষকে বারবার শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। কারও পক্ষে পুলিশ কাজ না করলেই পক্ষপাতের অভিযোগ তোলা হয়। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।