বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: গুরুদাসপুর থানার ওসি প্রত্যাহার, ডিবির কাছে মামলা হস্তান্তর

ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম (৩২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাটোরের গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব থানা-পুলিশের কাছ থেকে সরিয়ে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: গুরুদাসপুর থানার ওসি প্রত্যাহার, ডিবির কাছে মামলা হস্তান্তর

ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম (৩২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাটোরের গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব থানা-পুলিশের কাছ থেকে সরিয়ে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদের স্বাক্ষরিত আদেশে ওসিকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আবদুল হান্নানকে জনস্বার্থে রাজশাহী রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিআইজি কার্যালয়ে যোগদানের জন্য আদেশ জারির দিনই তাঁকে গুরুদাসপুর থানা থেকে অবমুক্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম। হেলমেট পরা কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।

পরে শাকিলকে উদ্ধার করে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়েছিল। তবে সোমবার পর্যন্ত মামলাটিতে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শাকিলের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাতেই তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

মিন্টুর গ্রেপ্তার, জানাজায় ভাঙচুর

স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের একাধিক সূত্রের দাবি, শাকিল হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই ঘটনায় মিন্টুকে যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকেও বহিষ্কার করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি।

স্থানীয় এসব সূত্র জানায়, মিন্টুর সঙ্গে প্রবাসী রাসেলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। শাকিল হত্যাকাণ্ডে মিন্টুর পাশাপাশি রাসেলেরও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে—এমন সন্দেহ থেকে জানাজায় উপস্থিত কিছু উৎসুক ব্যক্তি দোকানপাটে ভাঙচুর চালান এবং পরে লুটপাট করেন। তবে এ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায়ও থানায় কোনো মামলা হয়নি।

পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ

শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রি পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর ভাষ্য, গত ১৪ অক্টোবর দুর্বৃত্তরা তাঁর ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর তিনি গুরুদাসপুর থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।

রবিউল মিস্ত্রির অভিযোগ, সংসদ সদস্যের নির্দেশে প্রথমে মামলার এজাহারে আমেরিকাপ্রবাসী রাসেলের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে একই ব্যক্তির নির্দেশেই এজাহার থেকে রাসেলের নাম বাদ দেওয়া হয়। সংসদ সদস্যের ছেলে মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হলেও এ ঘটনায় পুলিশ আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরও পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

গত ২০ এপ্রিল নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন শাকিল। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি আমার জীবন নিয়ে সংশয়ে আছি খুবই। আমাকে মারার জন্য এক বড় ভাই বিভিন্ন চক্র ও গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করতেছে। যারা আমাকে মারতে পারবে, তাদের নাকি অনেকগুলো টাকা দেওয়া হবে। এই বিষয়ে আমি ওসির সঙ্গে কথা বলে থানায় একটা ডাইরি (সাধারণ ডায়েরি) করেছি এবং তাদের নাম উল্লেখ করা আছে। আমার যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে এই ডায়েরি (জিডি) অনুযায়ী মামলা করে দেবেন

শাকিলের জীবদ্দশায় দেওয়া ওই পোস্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, সব দিক বিবেচনায় নিয়েই শাকিল হত্যা মামলার তদন্ত করা হচ্ছে।

শাকিলের বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, হত্যার হুমকি পাওয়ার পর তাঁর ছেলে থানায় জিডি করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি। হত্যাকাণ্ডের পরও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ছেলের হত্যার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান রবিউল ইসলাম।

এ বিষয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখারের আলম বলেন, জনস্বার্থে গুরুদাসপুর থানার ওসি আবদুল হান্নানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।