সাত দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের উদ্যোগে আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় লংমার্চে যশোরে আড়াই লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া রুটে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দেড় হাজারের বেশি যানবাহন অংশ নেবে বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং যশোর-খুলনা-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসেন বলেন, দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তেল ও গ্যাসের সংকট রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও চরম অবনতি হয়েছে। রাস্তাঘাটে মানুষ পাখির মতো মারা যাচ্ছে। কোথাও শৃঙ্খলা নেই, মানুষের জীবনের নিরাপত্তাও নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, শত শত মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই সনদ সরকার বাস্তবায়ন করছে না। এর মাধ্যমে সরকার দেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।
মোবারক হোসেন আরও বলেন, সরকারের মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মানুষ সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করছে। এ কারণে সাত দফা দাবিকে দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি হিসেবে সাধারণ মানুষ বিবেচনা করছে।
লংমার্চের কর্মসূচির সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, ৩১ অক্টোবর বিকেলে যশোরের রাজঘাট থেকে ঝিনাইদহের বারবাজার পর্যন্ত সড়কে ৭০ হাজার নারী-পুরুষ অবস্থান করবেন। লংমার্চের বহর শহরের মুড়লীর মোড়ে পৌঁছালে সেখানে আড়াই লাখ মানুষের গণজমায়েত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, লংমার্চটি মণিহারের সামনে দিয়ে হাইকোর্ট মোড় হয়ে উপশহর-পালবাড়ি সড়ক ধরে কুষ্টিয়ার দিকে যাবে। চাঁচড়া চেকপোস্ট থেকে পালবাড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্মুক্ত রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।
লংমার্চের বহরে ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিকেল টিম ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান মোবারক হোসেন। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক কর্মীরা বহরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রছুল এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম সম্পাদক মুফতি রাশেদুল ইসলাম, এনসিপির যশোরের আহ্বায়ক নুরুজ্জামান, সদস্য সচিব নুরুজ্জামান রিপন, রবিউল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিন বিশ্বাসসহ অন্যরা।