বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা ছাড়া বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে এ সরকার কীভাবে গঠন করা হবে, এর কর্মপরিধি কী হবে এবং গঠনের সময়সীমা কত দিনের হবে, তা নিয়ে আরও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা ছাড়া বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে এ সরকার কীভাবে গঠন করা হবে, এর কর্মপরিধি কী হবে এবং গঠনের সময়সীমা কত দিনের হবে, তা নিয়ে আরও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আমাদেরকে প্রবর্তন করতে হবেই। এর কোনো বিকল্প নাই। কিন্তু কী প্রক্রিয়ায় এর গঠন হবে এবং তার কর্মপরিধি কী হবে, কয়দিনের ভেতরে গঠন করতে হবে, কোন কোন সার্চ বডি অথবা সিলেকশন কমিটির মধ্য দিয়ে সেটা করলে বিতর্কিত হবে না, এগুলো সবই আমরা পরীক্ষা করব।”

এ-সংক্রান্ত বিল সংসদে উত্থাপনের পর বিতর্কের সময়ও বিভিন্ন পরামর্শ ও প্রস্তাব আসতে পারে বলে জানান তিনি। কমিটির প্রতিবেদন তৈরি হলে তা সবার সামনে উপস্থাপন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিন সংবিধান সংশোধন কমিটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং গত দেড় দশকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের যেসব সদস্য সংসদ সদস্য হয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং পুলিশের বা কারাগারের হেফাজতে মৃত্যু বন্ধে সংবিধানে সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তাঁরা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় জুলাই জাতীয় সনদ গৃহীত হয়। সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে গণভোটের মাধ্যমে জনমত নেওয়া হয়েছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটি এর আগে রাজনৈতিক দল ও জোট, পেশাজীবী প্রতিনিধি, জুলাই আন্দোলনের অংশীজন, বিশিষ্ট নাগরিক, আইন বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমের সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুমের অপসংস্কৃতি ও অপরাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে চান তাঁরা। বাংলাদেশে যেন আর কখনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড না ঘটে, কেউ গুমের শিকার না হন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না হন এবং পুলিশের বা কারাগারের হেফাজতে কারও মৃত্যু না হয়, সেই প্রত্যাশা সংবিধানে প্রতিফলিত করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, “সেরকম একটি বাংলাদেশের প্রত্যাশায় আমাদের সন্তানরা, ছাত্রগণ অভ্যুত্থান সৃষ্টি করেছে। এদেশের জনগণ, আমাদের সন্তানরা রক্ত দিয়েছে। আমরা অবশ্যই তাদের আবেদন যথাযথভাবে প্রতিপালন করব। যেটা সংবিধানে ধারণ করা দরকার সেটা সংবিধানে, আর যেগুলো আইন বিধিবিধান করে করা যায় সেগুলো সেভাবে।”

পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে মন্তব্যের বিষয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তিনি আগের দিনই বক্তব্য দিয়েছেন। সরকারের আট মাসের সময়ে কোনো ক্রসফায়ার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, হেফাজতে মৃত্যু বা গুমের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের এ সরকারের এখন আট মাস পার হয়ে গেল। কোন কি ক্রসফায়ার হয়েছে? বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে? একটিও? কোন কাস্টডিয়াল ডেথ হয়েছে, হেফাজতে? একটিও? কোনো কি গুমের শিকার হয়েছে কেউ? একটিও? একটিও না।”

তিনি আরও জানান, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের কাছ থেকে পাওয়া গঠনমূলক প্রস্তাবগুলো একত্র করা হচ্ছে। কমিটির পরবর্তী বৈঠকগুলোতে এসব প্রস্তাব ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব প্রস্তাব পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় থাকায় এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, হুমাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও তাহসিনা রুশদীর লুনা উপস্থিত ছিলেন।