কক্সবাজারের উখিয়ায় নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে জ্বলে ওঠা আগুন ২৪ ঘণ্টার বেশি সময়েও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। বরং ঘটনাস্থলের একাধিক জায়গা দিয়ে গ্যাস বের হতে দেখা যাচ্ছে। এদিকে আগুনের সংস্পর্শে বিদ্যুতের ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে।
বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, গ্যাসের প্রবাহ শুধু নলকূপের গর্তে সীমাবদ্ধ নেই। আশপাশের বিভিন্ন স্থান দিয়েও গ্যাস বের হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে শিলা ও পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন তাঁরা।
আরহাম বলেন, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন জায়গায় গ্যাস বের হওয়ার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ধারণে একাধিক বিকল্প বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, ভূগর্ভে গ্যাসের উৎস ও প্রকৃতি বুঝতে নমুনা পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তবে গ্যাসের প্রকৃত উৎস এবং মজুতের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন। গ্যাসের প্রবাহ একাধিক স্থানে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার ছোট ইনানী এলাকায় মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বাড়ির আঙিনায় নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খননের সময় গ্যাস বের হতে শুরু করে। পরে সেই গ্যাসে আগুন জ্বলে ওঠে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।
গ্যাসের আগুনের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা প্রকৌশলী কাইজার নূর জানান, আগুনের সংস্পর্শে এসে ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
তিনি বলেন, ওই লাইন দিয়ে পাটোয়ার টেক উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। সেখান থেকে পাটোয়ার টেক, ছোট ইনানী, শফির বিল, বালিয়াডাঙ্গী, মনখালী ও শ্যামলাপুর এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছায়।
কাইজার নূর জানান, আগুনের কারণে সঞ্চালন লাইনের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বিপরীত দিক থেকে প্রায় ২০০ মিটার নতুন লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা সকাল ৮টা থেকে কাজ শুরু করেছি। আজকের মধ্যে নতুন লাইন নির্মাণ করে সংযোগ দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
তবে আগুনের কারণে বিদ্যুৎ বিভাগের যন্ত্রপাতির সরাসরি কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, আগুনের সংস্পর্শে থাকায় বিদ্যুতের লাইনটি চালু রাখা সম্ভব হয়নি।
জমির মালিক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে তাঁর বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ বসানো হয়েছিল। তবে নলকূপ স্থাপনের পরও পানি পাওয়া যায়নি। কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা পরে সেখান থেকে চলে যান।
আব্দুল্লাহ বলেন, মঙ্গলবার সকালে ওই স্থান থেকে গ্যাস বের হতে দেখা যায় এবং একপর্যায়ে আগুন জ্বলে ওঠে। আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।