বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

মালয়েশিয়ায় দোকানের আড়ালে হুন্ডি ব্যবসা, গ্রেপ্তার ৮ বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের চাউকিট এলাকায় তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে হুন্ডি ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে আট বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। খুচরা ও পাইকারি দোকানের আড়ালে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অর্থ লেনদেন পরিচালনা করে আসছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

মালয়েশিয়ায় দোকানের আড়ালে হুন্ডি ব্যবসা, গ্রেপ্তার ৮ বাংলাদেশি
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের চাউকিট এলাকায় তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে হুন্ডি ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে আট বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। খুচরা ও পাইকারি দোকানের আড়ালে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অর্থ লেনদেন পরিচালনা করে আসছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কুয়ালালামপুরের ক্লাং ভ্যালি অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে চক্রটি কার্যক্রম পরিচালনা করত।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, এক মাসের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। এ সময় ২৪ থেকে ৪২ বছর বয়সী আট বাংলাদেশি পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে তাঁরা খুচরা ও পাইকারি দোকানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এক বিবৃতিতে জাকারিয়া শাবান বলেন, চক্রটি ক্লাং ভ্যালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করত। পরে বিদেশি এজেন্টদের নামে নিবন্ধিত ই-ওয়ালেট ও স্থানীয় ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন করা হতো। যেসব গ্রাহকের ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারের সুযোগ ছিল না, তাঁদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নেওয়া হতো।

তদন্তের বরাতে জাকারিয়া শাবান জানান, চক্রটির এজেন্টরা বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ব্যাংকিং কার্যদিবস—রোববার থেকে বৃহস্পতিবার—অনুসরণ করে লেনদেন পরিচালনা করত। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এসব কার্যক্রম চলত।

তদন্তে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ই-ওয়ালেট হিসাবগুলোতে ১ লাখ ৮০ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিতের বেশি লেনদেনের রেকর্ড পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

অভিযানে অবৈধ কার্যক্রম থেকে অর্জিত বলে সন্দেহ করা ২৪ হাজার ৭২০ রিঙ্গিত নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, সিসিটিভি সরঞ্জাম, কিউআর কোড এবং বেশ কিছু বাণিজ্যিক নথি জব্দ করেছেন কর্মকর্তারা।

জব্দ করা নথির মধ্যে মালয়েশিয়ার কোম্পানি কমিশনের কাগজপত্রের অনুলিপি, কুয়ালালামপুর সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স, দোকানের আনুষ্ঠানিক সিল ও চাবি রয়েছে।

জাকারিয়া শাবান আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে দুজনের মালয়েশিয়ায় অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থানের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন পাসের শর্ত লঙ্ঘন বা অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে আরও দুই বাংলাদেশি পুরুষ এবং মালয়েশিয়ার এক পুরুষ ও এক নারীকে ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।