সোমবার, 26 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সীমান্তে বাঘের আক্রমণে আহত ৪, উদ্ধারে ঢাকা থেকে প্রশিক্ষিত দল

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্ত এলাকায় চিতাবাঘের আক্রমণে এক নারীসহ চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধারে সোমবার ঢাকা থেকে প্রশিক্ষিত একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে সোমবার বিকেল পর্যন্ত প্রাণীটির সন্ধান পাওয়া যায়নি

সীমান্তে বাঘের আক্রমণে আহত ৪, উদ্ধারে ঢাকা থেকে প্রশিক্ষিত দল

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্ত এলাকায় চিতাবাঘের আক্রমণে এক নারীসহ চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধারে সোমবার ঢাকা থেকে প্রশিক্ষিত একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে সোমবার বিকেল পর্যন্ত প্রাণীটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গত রোববার বিকেল চারটার দিকে আমঝোল সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন ওই গ্রামের শহিদার রহমানের স্ত্রী শরিফা বেগম (৩০), মৃত মনির হোসেনের ছেলে আফসার হোসেন (৪০) এবং নজরুল ইসলাম (৪৩)। সোমবার নতুন করে সোবাহান (৩৫) নামের আরও একজন আহত হন।

গুরুতর আহত শরিফা বেগম জানান, বাড়ির পাশের ধানখেতের আইলে একটি ছাগল বেঁধে রাখা ছিল। চিতাবাঘটি ছাগলটির ওপর হামলা করলে তিনি সেটিকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। এ সময় বাঘটি তাঁর ওপর আক্রমণ করে। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের জমিতে কাজ করা লোকজন এগিয়ে আসেন। তখন বাঘের আক্রমণে আরও দুজন আহত হন। পরে প্রতিবেশী ও স্বজনেরা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোনাব্বেরুল হক মোনা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ধানখেতে বাঘ, এলাকায় আতঙ্ক

স্থানীয়দের ধারণা, চিতাবাঘটি বর্তমানে ধানখেতের ভেতরে লুকিয়ে আছে। এ কারণে গ্রামবাসী ফসলের জমিটি ঘিরে রেখেছেন। বিজিবি জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যার আগে স্থানীয়ভাবে ধারণ করা ড্রোনের ছবিতে বাঘটিকে ধানখেতের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার বিকেল চারটার দিকে বনচৌকি বিওপির আওতাধীন আমঝোল সীমান্ত দিয়ে ভারতের জঙ্গল থেকে বাঘটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এ সময় বাঘের আক্রমণে তিনজন আহত হওয়ার তথ্যও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৫ বিজিবির অধিনায়কসহ একটি টহল দল ঘটনাস্থলে রয়েছে।

বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসনের আবেদনে ঢাকা থেকে প্রশিক্ষিত প্রাণী উদ্ধারকর্মীরা এসেছেন। তাঁদের সঙ্গে রয়েছে প্রাণীকে অচেতন করার কাজে ব্যবহৃত ট্র্যাঙ্কুলাইজার গান। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটে এ ধরনের সরঞ্জাম না থাকায় ঢাকা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

বাঘটি কীভাবে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন

ড্রোনে ধারণ করা ছবিতে প্রাণীটিকে চিতাবাঘ বলে মনে হচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, খাবারের সন্ধানে ভারতের জঙ্গল থেকে প্রাণীটি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। অন্য একটি পক্ষের দাবি, ভারতে কাঁটাতারের ওপারে পাচারের সময় প্রাণীটি পালিয়ে এসে লোকালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এসব দাবির কোনোটিই নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের দুই পাশে বাঘ বা চিতাবাঘের আবাস গড়ে ওঠার মতো বনাঞ্চল নেই। কয়েক দিন আগে লালমনিরহাট শহরের সামাজিক বন বিভাগের নার্সারি থেকে একটি অজগর উদ্ধারের ঘটনাও তাঁরা উল্লেখ করেছেন।

চিতাবাঘের আতঙ্কে সীমান্ত এলাকার কয়েক শ একর জমির ধানের ফসল নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। প্রাণীটিকে দেখতে সেখানে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়েছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।