বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডব, নিহত অন্তত ৮

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ঘরবাড়ি ও সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিজমি, ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডব, নিহত অন্তত ৮
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ঘরবাড়ি ও সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিজমি, ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ২৮ অক্টোবর ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলে আছড়ে পড়ে অর্ণব। উপকূল অতিক্রমের সময় ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।

প্রাথমিকভাবে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের পর্ব ইয়ানামের দক্ষিণ-পশ্চিমে নরসাপুরের প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব এলাকায় সম্পন্ন হয়। পরে এটি অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় থেকে শক্তি হারিয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।

ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে প্রাণহানির বিষয়ে প্রথম দিকে কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। পরে তিনি পাঁচজনের মৃত্যুর কথা জানান। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা অন্তত আটজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাইডু বলেন, অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও সেদিন কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সবাইকে সতর্ক করেছিল। কেউ সতর্কতা মেনে সহযোগিতা করেছেন, আবার কেউ অবহেলা করে বাইরে বেরিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরি করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া কেন্দ্রের কাছে ইতিমধ্যে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে কৃষি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১৫ হাজার বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনাসিমা ও পশ্চিম গোদাবরী জেলাতেই প্রায় ৫০ হাজার গাছ উপড়ে পড়েছে। এর মধ্যে কোনাসিমা জেলায় নারকেলগাছের সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার। ঝড়ের আঘাতে ধানখেতের ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারকেলসহ বিভিন্ন উদ্যান ফসলও।

জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) কর্মকর্তা নরেন্দ্র সিং বুন্দেলা জানিয়েছেন, অন্ধ্রপ্রদেশে অন্তত ৩১টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৫৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়ে ত্রাণশিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে এনডিআরএফের ৩৯টি দল মোতায়েন ছিল।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারাও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছেন। কাকিনাড়ার পুলিশ সুপার জি বিন্দু মাধব জানান, জেলায় কয়েক শ গাছ এবং ১০০টির কম বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। উপ্পাদা উপকূলীয় সড়কটি পুরোপুরি ধুয়ে গেছে।

কোনাসিমার পুলিশ সুপার রাহুল মীনা বলেন, ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া বাতাসে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।

অলুরি সীতারামারাজু জেলার পুলিশ সুপার অমিত বারদার জানান, সেখানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে একটি পুরোনো সেতু ভেঙে যাওয়ায় একটি জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ঝড়ে সড়কে পড়ে থাকা গাছ দুই ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নাইডু। জাতীয় মহাসড়কের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করা এবং ঝড়ের তীব্রতা কমার পর যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ত্রাণশিবিরগুলোতে খাবার, পানি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং কৃষি ও উদ্যান ফসলের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।