মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো অবস্থাতেই ইরানের সাথে চলমান বিরোধকে একটি অন্তহীন বা অনন্তকালীন যুদ্ধে পরিণত হতে দেবেন না বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান প্রশাসনের সামরিক পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার পরপরই অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলোতে নজর দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ওয়ার্থ শহরে সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ পরিচালিত এক টাউন হল কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ওঠা নানা পর্যালোচনার জবাবে তিনি সরকারি রণকৌশলের পক্ষেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। ওই আয়োজনে রিপাবলিকান দলের এক সমর্থক প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, বিপুল ব্যয়বহুল বিদেশি যুদ্ধগুলো থেকে দূরে থাকার যে প্রতিশ্রুতি বর্তমান প্রশাসন দিয়েছিল, তা কতটুকু রক্ষিত হয়েছে।
এই প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের হতাশা বা ক্ষোভের জায়গাটি তিনি অনুধাবন করতে পারেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ইরাক যুদ্ধে নিজের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেন। ভ্যান্স উল্লেখ করেন, বিগত সাত মাস যাবৎ তেহরানের সাথে ওয়াশিংটনের সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজ করলেও দুই দেশের মধ্যকার এই বৈরী সম্পর্কের ইতিহাস মূলত ৪৭ বছরের পুরোনো। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দ্বৈরথকে কখনোই কোনো চিরস্থায়ী রূপ দেবেন না।
দীর্ঘকালীন সামরিক উপস্থিতির বিরোধিতা করার মানে এই নয় যে, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবহার থেকেও বিরত থাকতে হবে বলে মনে করেন জেডি ভ্যান্স। তার মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকার কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য ঠিকই বাস্তবায়ন করবেন এবং সেই সফলতা অর্জনের পর রাষ্ট্রীয় প্রশাসন দেশের অভ্যন্তরীণ অন্যান্য অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গভাবে মনোনিবেশ করবে।