বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

২৭২ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ

দিনের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য বেশ আনন্দদায়কই ছিল। মাঠে নেমেই দিনের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতরান পূর্ণ করেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। তবে এই উদ্‌যাপন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

২৭২ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দারুণ অবস্থানে থেকে দিন শুরু করেও অপ্রত্যাশিত ব্যাটিং ধসের মুখে পড়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই নিজেদের প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৭২ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলটি। আগের দিনের তিন উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ব্যাট করতে নামলেও দলীয় স্কোরে মাত্র ৫৯ রান যুক্ত করতেই সাজঘরে ফিরে যান শেষ সাতজন ব্যাটার। ২২১ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেটের পতন হওয়ার পর থেকেই মূলত স্বাগতিকদের ইনিংসে মড়ক লাগে।

দিনের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য বেশ আনন্দদায়কই ছিল। মাঠে নেমেই দিনের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতরান পূর্ণ করেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। তবে এই উদ্‌যাপন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এগারোটি বাউন্ডারির সাহায্যে ২৩৪ বলে ১০৫ রান করা এই বাঁহাতি ব্যাটারকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে বিদায় করেন ক্যারিবীয়দের অভিষিক্ত স্পিনার জশুয়া বিশপ। এরপর আগের দিন বিয়াল্লিশ রানে আহত হয়ে মাঠ ছাড়া তাওহিদ হৃদয় পুনরায় ক্রিজে আসলেও নতুন করে কোনো রান যোগ করতে ব্যর্থ হন। বিশপের বলে অকারণে ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলতে গিয়ে সরাসরি বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি।

ষষ্ঠ উইকেটে চাপ সামাল দেওয়ার লক্ষ্যে বত্রিশ রানের একটি জুটি গড়েন লিটন কুমার দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু পনেরো রান করা মিরাজ স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের বলে পরাস্ত হয়ে সাজঘরে ফিরলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডার। শেষ পাঁচটি উইকেটের পতন ঘটে মাত্র উনিশ রানের ব্যবধানে। হাসান মাহমুদ ও নাঈম হাসানকে আউট করেন পেসার শামার জোসেফ। অন্যদিকে তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামকে টানা দুই বলে বিদায় করে ক্যারিবীয়দের উল্লাসে ভাসান ওয়ারিকান। এক প্রান্ত আগলে রাখা লিটন দাস চারটি বাউন্ডারির সাহায্যে ৮৮ বলে চৌত্রিশ রানে অপরাজিত থেকে যান। সফরকারীদের পক্ষে দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করে মাত্র তিপ্পান্ন রান খরচায় পাঁচটি উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি স্পিনার ওয়ারিকান, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকারের রেকর্ড।