বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা, বাড়বে নাকি কমবে?

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা তেলের দাম কমার আশা জাগালেও অঞ্চলটিতে নতুন করে হামলা এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা, বাড়বে নাকি কমবে?

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা তেলের দাম কমার আশা জাগালেও অঞ্চলটিতে নতুন করে হামলা এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১১৪ ডলার ৪৭ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ ডলার ১৩ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ৬৫ সেন্টে নেমে এসেছে। এর আগের দিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছিল।

তেলের বাজারে এই ওঠানামার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাইকে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরানের কাছে নতুন একটি খসড়া চুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রস্তাবটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। ফলে শান্তি আলোচনা কতটা এগোবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুথিদের হামলা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তেলের সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার আশঙ্কাও বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, শান্তি আলোচনা এগিয়ে গেলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমতে পারে। এতে তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সংঘাত আরও বাড়লে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটলে দাম আবারও বেড়ে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম সামনে বাড়বে নাকি কমবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর।