বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ট্রাম্পের পোস্ট আগে দেখতে মাসে লাখ ডলার দিচ্ছে তিন প্রতিষ্ঠান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের চেয়ে দ্রুত দেখার সুযোগ পেতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ (টিএমটিজি)। এ সুবিধা নিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্লুমবার্গ।

ট্রাম্পের পোস্ট আগে দেখতে মাসে লাখ ডলার দিচ্ছে তিন প্রতিষ্ঠান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের চেয়ে দ্রুত দেখার সুযোগ পেতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ (টিএমটিজি)। এ সুবিধা নিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্লুমবার্গ।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

চুক্তির আওতায় থাকা অন্য দুটি প্রতিষ্ঠান হলো ওয়াল স্ট্রিটভিত্তিক সুসকেহানা ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ ও জাম্প ট্রেডিং। প্রতিষ্ঠান দুটি উচ্চগতির ও অ্যালগরিদমনির্ভর স্বয়ংক্রিয় লেনদেনে বিশেষজ্ঞ।

‘ট্রুথ এপিআই’ নামের এ সেবার মাধ্যমে গ্রাহকেরা সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় প্রায় ৫০ মিলিসেকেন্ড আগে ট্রাম্পের পোস্ট দেখতে পারেন। টিএমটিজির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়গত সুবিধা আর্থিক বাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, ট্রাম্পের বক্তব্য ও ঘোষণার প্রভাব প্রায়ই বাজারে পড়ে।

উচ্চগতির লেনদেনে ব্যবহৃত সফটওয়্যার সংবাদ শিরোনাম, কোম্পানির ঘোষণা ও সরকারি বিবৃতি বিশ্লেষণ করে মুহূর্তের মধ্যেই লেনদেন সম্পন্ন করতে পারে। গত এপ্রিলে ইরান যুদ্ধের মধ্যে ট্রুথ সোশ্যালে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর তেলের ফিউচারসের দাম কমে যাওয়ার ঘটনা এ ধরনের পোস্টের বাজারে প্রভাবের একটি উদাহরণ।

গত জুলাইয়ে টিএমটিজি দ্রুত পোস্ট দেখার এ সেবা চালুর ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য আর্থিক সংস্থার কাছে সেবাটি বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। গত আগস্টে বিনিয়োগকারীদের প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, এ সেবার জন্য ১০টির বেশি গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি। সে সময় গ্রাহকদের নাম প্রকাশ না করে কোম্পানিটি জানিয়েছিল, তাদের অধিকাংশই ওয়াল স্ট্রিটের ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান।

ব্লুমবার্গ, জাম্প ট্রেডিং ও সুসকেহানা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে, আর্থিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারা সেবাটি মূল্যায়ন করবে, তবে আপাতত সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে দ্রুত প্রবেশাধিকার বিক্রির এ উদ্যোগ নিয়ে নৈতিকতা ও আইনি প্রশ্ন উঠেছে। গত জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও অ্যাডাম শিফ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে সেবাটি সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করছে কি না, তা তদন্তের অনুরোধ জানান। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যবহার করা ‘চমকে দেওয়ার মতো ক্ষমতার অপব্যবহার’। তবে এসইসি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এদিকে, গত আগস্টে ইন্টারসেপ্ট মিডিয়া ও অলাভজনক সংস্থা ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় হোয়াইট হাউসের সরকারি ঘোষণা একচেটিয়াভাবে ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ বন্ধের আবেদন জানানো হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মটিতে অর্থের বিনিময়ে দ্রুত তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা থাকায় সরকারি তথ্যে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।

মামলায় বলা হয়েছে, সরকারি তথ্যে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে আর্থিক বাধা সৃষ্টি করা অসাংবিধানিক হতে পারে। এর ফলে ধনী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ সুবিধা পেতে পারে। বাদীপক্ষের আরও দাবি, সমান প্রবেশাধিকারের জন্য অর্থ নেওয়ার এ ব্যবস্থা জনসাধারণের প্রথম সংশোধনীতে স্বীকৃত অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে। পাশাপাশি, তথ্যের সমান প্রবেশাধিকারের জন্য ‘অযৌক্তিক অঙ্কের অর্থ’ আদায় পঞ্চম সংশোধনীরও লঙ্ঘন হতে পারে। মামলাটি এখনো চলমান।

ট্রাম্পের পারিবারিক ট্রাস্টের হাতে টিএমটিজির ৪১ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। ট্রাম্প ওই ট্রাস্টের একমাত্র সুবিধাভোগী। নিয়ন্ত্রক সংস্থায় কোম্পানির জমা দেওয়া নথিতে ট্রাম্প জুনিয়রকে ট্রাস্টের ট্রাস্টি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, ট্রাস্টের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও বিনিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ক্ষমতা তাঁর হাতে রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল জানিয়েছেন, ট্রাম্প বা তাঁর পরিবারের কেউ সরাসরি বিনিয়োগ পোর্টফোলিও-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেন না। তবে প্রেসিডেন্ট নিজের পদ অনুচিতভাবে ব্যবহার করছেন বলে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। ট্রাম্প জুনিয়রের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো জবাব দেয়নি।

টিএমটিজি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রুথ সোশ্যাল বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য চাহিদাসম্পন্ন শিল্পমানের এপিআই সেবা সরবরাহ করে এবং গ্রাহকদের গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দেয়। কোম্পানিটির দাবি, বেনামি সূত্রের বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠান, গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতি করা।

চলতি বছরে টিএমটিজির শেয়ারের দাম ৫০ শতাংশের বেশি কমেছে। ২০২৪ সালের মার্চে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সময় কোম্পানিটির বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৮০০ কোটি ডলার। বর্তমানে তা কমে প্রায় ১৮০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে কোম্পানিটি প্রায় ১৭৬ কোটি ডলার লোকসান করেছে। এ লোকসানের মধ্যে এমন হিসাবভুক্ত ক্ষতিও রয়েছে, যার বিপরীতে সরাসরি নগদ অর্থের বহিঃপ্রবাহ ঘটেনি।

মামলার অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি জবাব না দিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ইংল বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময় মার্কিন জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থে কাজ করেন। এ কারণেই জনগণ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তাঁকে আবারও এ পদে নির্বাচিত করেছে।’