বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব ধরনের দলীয় তৎপরতা নিষিদ্ধ ঘোষণার সরকারি প্রজ্ঞাপনটির আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনটি যথাযথভাবে উত্থাপিত না হওয়ার কারণ দেখিয়ে সরাসরি বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার এই আদেশ প্রদান করেন।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর এলাকার অধিবাসী মো. আল আমিন গত ৭ সেপ্টেম্বর এই রিট আবেদনটি আদালতের নজরে আনেন, যেখানে আবেদনকারীর আইনি প্রতিনিধিত্ব করেন আইনজীবী ইউনূস আলী।
উক্ত আবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে বিগত বছরের ১২ মে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনটিকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত বা অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছিল। একই সাথে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই সরকারি নির্দেশনার কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখারও অনুরোধ করা হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ, সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন প্রক্রিয়া সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটি ও তার সব সহযোগী কাঠামোর নেতাকর্মীদের যেকোনাে ধরনের প্রচারপত্র বিলি, মুদ্রিত বা সম্প্রচার মাধ্যমে প্রচারণা, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশ, শোভাযাত্রা, সমাবেশ কিংবা সম্মেলনের মতো সব ধরনের রাজনৈতিক ও প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।