জাতীয়
বাংলাদেশের মানুষ কখনো স্বৈরাচার সমর্থন করেনি : স্পিকার
আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যান্ডা ফিলিপের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় আসা এক প্রতিনিধি দল জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে মতবিনিময় করেন।
আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যান্ডা ফিলিপের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় আসা এক প্রতিনিধি দল জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে মতবিনিময় করেন।
দ্বিপাক্ষিক এই আলোচনায় মূলত স্থান পায় দেশের অতীত রাজনৈতিক পরিক্রমা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ধারা এবং বৈশ্বিক নানা মঞ্চে দেশের কার্যকর উপস্থিতি। সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্পিকার দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, এ দেশের মুক্তিকামী জনতা প্রতিটি মুহূর্তে প্রজা অধিকার ও গণতন্ত্রের মূল ভাবধারার পাশে দাঁড়িয়েছে। একাত্তরের সংগ্রাম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নাগরিকেরা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুষ্ঠু রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণে অকাতরে জীবন সমর্পণ করেছে, তবে কোনো সামরিক বা স্বৈরাচারী শাসনকে কস্মিনকালেও সম্মতি দেয়নি।
সামনে সমাপ্ত হওয়া ১৩তম সংসদীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এই ভোটপ্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নতুন এই আইনসভা বর্তমানে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ মূল্য দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রতিনিধি দলের প্রধান মিজ ফিলিপ দেশের এই গণতান্ত্রিক পুনরাগমনকে স্বাগত জানান। তিনি মত প্রকাশ করেন যে, জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে কাঠামোগত প্রাতিষ্ঠানিক সংশোধন অপরিহার্য, যা অনুগামী প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবদান রাখবে। তাছাড়া কাঠামোগতভাবে একটি শক্তিশালী সংসদীয় চর্চাই জনমানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘ এই অধিবেশনে আন্তর্জাতিক নানা ফোরাম ও জাতিসংঘে দেশের জোরালো উপস্থিতি, সমুদ্রসীমার অধিকার বিষয়ক সুরাহা এবং আন্তঃসংসদীয় সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসে। তাৎপর্যপূর্ণ এই বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপ-স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মুখ্য প্রচ্ছদ প্রতিনিধি মো. নূরুল ইসলাম, সফররত বিদেশি সদস্যবর্গ এবং সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।