সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় রটারডাম কনভেনশনে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তির অংশীদার হলে ক্ষতিকর পদার্থের নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় উন্নত কারিগরি সহায়তা প্রাপ্তি এবং এ সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোতে বিদেশি অর্থায়নের পথ আরও সুগম হবে।

বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় রটারডাম কনভেনশনে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ
ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ও বিষাক্ত কীটনাশকের বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ এবং এর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে অংশ নিতে যাচ্ছে ঢাকা। রোববার মন্ত্রিসভার ২৫তম অধিবেশনে ‘রটারডাম কনভেনশন অন দ্য প্রায়র ইনফর্মড কনসেন্ট প্রসিডিউর ফর সার্টেন হ্যাজার্ডাস কেমিক্যালস অ্যান্ড পেস্টিসাইডস ইন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’ শীর্ষক এই সনদে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন রাসায়নিক ও কীটনাশকের আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলোর মাঝে তথ্যের অবাধ আদান-প্রদান এবং সমবণ্টনের ভিত্তিতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর এই কাঠামোটি প্রণীত হয়। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়ন শুরু হয়। বিশ্বের ১৬৭টি রাষ্ট্র ইতোমধ্যে এই সনদের সদস্যপদ গ্রহণ করেছে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার বা সার্ক-এর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মাঝে কেবল বাংলাদেশ ও ভুটান এতদিন এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগের বাইরে ছিল।

গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তির অংশীদার হলে ক্ষতিকর পদার্থের নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় উন্নত কারিগরি সহায়তা প্রাপ্তি এবং এ সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোতে বিদেশি অর্থায়নের পথ আরও সুগম হবে। এর পাশাপাশি একটি আধুনিক রাসায়নিক তথ্যভাণ্ডার প্রণয়ন এবং এসব ঝুঁকিপূর্ণ উপাদানের গতিবিধি নজরদারির ক্ষেত্রেও দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া চুক্তির তৃতীয় পরিশিষ্টে উল্লেখিত রাসায়নিকগুলো দেশে আনার ক্ষেত্রে পূর্বানুমতি সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সৃষ্টি হবে। এর ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমদানি ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর মাঝে স্বচ্ছ তথ্যপ্রবাহ এবং যৌথ দায়বদ্ধতার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

পাশাপাশি এই সনদের ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, চুক্তিতে থাকা অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বিষাক্ত উপাদান ও কীটনাশক সম্পর্কিত বিজ্ঞানভিত্তিক, কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং আইনি নানা বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সনদের ১৬ নম্বর ধারার আওতায় রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চুক্তির মূল সচিবালয় থেকে সরাসরি প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহায়তা গ্রহণের বিশেষ সুবিধাও দেশের জন্য উন্মুক্ত হবে।